পাইকারি বাজারে দাম নেই, খুচরা বাজারে সবজির দাম তিনগুণ

প্রথম পাতা » অর্থনীতি » পাইকারি বাজারে দাম নেই, খুচরা বাজারে সবজির দাম তিনগুণ
সোমবার, ৭ জানুয়ারী ২০১৯



---

বরাবরের মতো এবারও শীতকালীন সবজি উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে উত্তরের জেলা বগুড়া। এই জেলা থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সবজি যায় প্রতিদিন। আগাম বিক্রি করে লাভের মুখ দেখলেও ভরা মৌসুমে সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছে চাষিরা।

মহাস্থান পাইকারি বাজারে মাঠ থেকে নিয়ে আসা বাঁধাকপি প্রতি পিস চার টাকা, বরবটি, বেগুন, শিম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ টাকা।

তবে কৃষক উৎপাদিত সবজির ন্যায্য দাম না পেলেও ভোক্তাদের একই সবজি কিনতে হচ্ছে তিনগুণ বেশি দামে। ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই বেশি দামের কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন খাজনা ও পরিবহন ভাড়াকে।

এদিকে সবজি চাষিরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা বলছেন, এই অঞ্চলে একটি সবজি সংরক্ষণাগার গড়ে না উঠায় তাদেরকে ভরা মৌসুমে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বগুড়ার পাইকারি বাজারে ভরা মৌসুমেই প্রতিদিন সবজির দাম কমছে। ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠছে না। উত্তরের সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজির বাজার মহাস্থান হাট ঘুরে দেখা গেছে, দাম না পেয়ে পানির দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক।

গেল শনিবার সকালে মহাস্থান সবজি হাটে গিয়ে দেখা যায় বাঁধাকপি প্রতি পিস চার টাকা, বরবটি, মূলা, সিম ও বেগুন প্রতি কেজি পাঁচ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকাররা এসব সবজি কম দামে কিনে ট্রাকের সামনে জড়ো করছেন।

সবজি বিক্রি করতে আসা অভিরামপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন যেভাবে সবজির দাম কমছে তাতে করে ভ্যানের ভাড়াই উঠছে না। দুই সপ্তাহ আগেও দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি হয়েছে।

রমজান আলী নামের এক সবজি বিক্রেতা জানান, একদল পাইকার মহাস্থান বাজার থেকে সবজি এনে শহরের রাজাবাজারের পাইকারি আড়তে তোলেন। সেখান থেকে আবার খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনেন। এতে করে ভোক্তাদের বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে।

মহাস্থান হাটের সবজি ব্যবসায়ী মেসার্স সততা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী আব্দুল বারী বলেন, এ অঞ্চলে ব্যাপক সবজি চাষ হয়ে থাকে। এখন ভরা মৌসুমের কারণে প্রতিদিনই দাম কমছে। কাঁচামাল হওয়ার কারণে কৃষকরা অনেক সময় বাধ্য হয়েই পানির দরে সবজি বিক্রি করে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় শীত মৌসুমে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় দুই লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। আর এ বছর জেলার সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সবজি উৎপাদন তিন লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৫:৪৭   ৪০ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অর্থনীতি’র আরও খবর


বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ প্রকাশ
জাপানি বিনিয়োগ উন্নয়নকে আরো বেগবান করবে - বাণিজ্যমন্ত্রী
বিসিআইসিকে লাভজনক করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার আহবান জানান - শিল্পমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রীর সাথে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ
মাথাপিছু আয় ১৯০৯ ডলার হবে - অর্থমন্ত্রী
ভারতে পোশাক রফতানি বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ
প্রাণকে দিয়েই বন্ডের বিনিয়োগ শুরু করব - অর্থমন্ত্রী
মাছ রপ্তানি: গত অর্থ বছরে আয় ৪,৩০৯.৯৪ কোটি টাকা
এসডিজি অর্জনে ভূমিকা রাখায় পুরস্কার পেলো এসইবিএল
চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতি স্বীকার, সুযোগ নিচ্ছে দুষ্টচক্র

আর্কাইভ