কেন বহিষ্কার হলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » কেন বহিষ্কার হলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক
বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২



---

ইসমাইল হোসেন জামালপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জামালপুর জেলা শাখা কর্তৃক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত একটি পত্র সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৭নং কামরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম(জি.এস)কে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

কেন এ বহিষ্কার করা হয়েছে, এবিষয়ে পত্রে উল্লেখ করা হয়। গত ১৩/০৮/২০২২ইং তারিখে একটি গ্রাম্য শালীসিতে জন সম্মুখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরিষাবাড়ী পৌর শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক এড.আলমগীর হোসেন জীবনকে মারধর করা হয়েছে। এতে করে জনসম্মুখে সংগঠনের ভাবমূর্তি ব্যাপক ক্ষুন্ন হয়েছে বলে সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে গঠনতন্ত্রের ৪৭(১) ধারা মোতাবেক তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। উক্ত পত্রে আরও বলা হয়েছে কেন তাকে চুড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবেনা তা আগামী সাত(৭) দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখা’র সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে, কেন এই আকস্মিক বহিষ্কার। কেন এই শালীসিয়ানদের মধ্যে অপ্রীতিকর দাঙ্গার সৃষ্টি।

এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে গিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার(১৩ আগষ্ট) বিকালে পৌর শহরের আলতা হল চত্বর এলাকায় জারা অটো বাইক সার্ভিসিং সেন্টারের মালিক জাহাঙ্গীরের দোকানে পুরাতন অটো বাইক ক্রয়-বিক্রয় সমিতির ২ সদস্যের মধ্যে ৭লক্ষ টাকা লেনদেনের একটি ঝামেলা নিয়ে সালিস বসে।

আর সেই সালিসিতে বিবাদীর পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কামরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাম (জি.এস) সহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এসে বসে এবং বাদীর পক্ষে পৌর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. আলমগীর হোসেন জীবন ও অটো বাইক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্যরাও এসে বসেন।

একপর্যায়ে চলমান সালিসিতে এড.জীবন বক্তব্য রাখলে শালিসির সভাপতি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম(জি.এস) তার উপর চোরাও হোন এবং তাকে ধাক্কা মারেন। পরে চেয়ারম্যানের সাথে থাকা সুলতান, মিনহাজ, কালু ও জুরান তাকে মারধর করেন। এসময় অন্যান্য লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে পুরাতন অটো বাইক ক্রয়-বিক্রয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নিউজ টু নারায়ণগঞ্জ কে জানান, জান্নাত মটরস্ এন্ড ব্যাটারী শপ এর স্বত্বাধিকারী মোঃ জুরান আলী বগুড়া জেলার লুৎফর রহমান ও মইনুল হকের সাথে যৌথভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ পুরাতন ব্যাটারী কিনে সীসার ব্যবসা করে আসছিলেন। হঠাৎ জুরান আলী তার ওই ব্যবসা থেকে হিংসভাগ টাকা সরিয়ে নিলে ব্যবসায় অর্থ সংকট দেখা দেয়।

এমতাবস্থায় জুরানের অংশীদার মইনুল ও লুৎফর রহমান জারা অটো বাইক সার্ভিসিং সেন্টারের মালিক মোঃ জাহাঙ্গীর কবীরের সাথে ব্যবসায়ীক ভাবে সুসম্পর্ক থাকায় প্রথমে দুই লক্ষ টাকা এবং পরে ৫ লক্ষ টাকা হাওলাত নেন।

এদিকে তিনজনের যৌথ ব্যবসায় গরমিল দেখা দিলে জুরান আলী চালাকি করে প্রতিষ্ঠানের সমস্ত মালামাল ঢাকায় নিয়ে ১৩ লক্ষ টাকা বিক্রি করে সমস্ত টাকা নিয়ে নেয় এবং হিসাবে গরমিল দেখিয়ে ব্যবসায়ী অংশীদার মইনুল ও লুৎফরের টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টায় মাত্র ২ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা অবশিষ্ট তারা পায় বলে হিসাব দেন জুরান আলী।

এবিষয়টি জাহাঙ্গীর জানতে পেরে মইনুল ও লুৎফর এর কাছে তার টাকা ফেরৎ চান সে এবং টাকা না দিলে তাদেরকে যেতে দিবেন না বলে জানিয়ে দেন জাহাঙ্গীর। পরে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানালে তারাও আসেন এবং তাদের উপস্থিতিতেই বিভিন্ন আলোচনার মধ্যদিয়ে জুরান আলী, তার ব্যবসায়ী অংশীদারের কর্জকৃত ৭ লক্ষ টাকার মধ্যে ৪ লক্ষ টাকার জিম্মাদার হোন বলে জানান সমিতির সংশ্লিষ্ট বিচারকগণ।

পরবর্তীতে জুরান আলীর কাছে জাহাঙ্গীর টাকা চাইলে সে ২ লক্ষ টাকার বেশী দিতে পারবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন। এই নিয়েই আবারও কয়েক দফা সালিস হয় এবং জুরান আলী ২ লক্ষ টাকা জাহাঙ্গীরকে ফেরত দেন বাকি ২ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার আবারও তারিখ নেন। আর সেই তারিখ অনুয়ায়ীই বসা হয়ে ছিল ওইদিন।

কিন্তু জুরানের পক্ষের লোকজন এমনভাবে কথাবার্তা বলছিলেন, যেন জুরানের কাছ থেকে জোরপূর্বক ২লক্ষ টাকা নিয়েছে এবং আরও ২লক্ষ টাকা দাবী করছে জাহাঙ্গীর। বিবাদীদের এমন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এড.আলমগীর হোসেন জীবন সুন্দর ভাবে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। এতেই জুরানের পক্ষে সিন্ডিকেট হয়ে আসা লোকজনের আঁতে ঘা লাগে এবং সালিশি বানচাল করার চেষ্টায় এডভোকেট জীবনের উপর চরাও হয় এবং তাকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালিশিতে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এবিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. আলমগীর হোসেন জীবন নিউজ টু নারায়ণগঞ্জ কে বলেন, তাঁরা আমাকে অন্যায় ভাবে মারধর করেছে। আমি বিষয়টি জেলা আওয়ামীলীগ জানিয়েছি। তাঁরা ইতিমধ্যে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থাও নিয়েছেন। আমিও কোর্টে মামলা দায়ের করেছি। বিষয়টি আইনগত ভাবেই দেখা হবে।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কামরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম(জি.এস) এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ সময়: ২১:৫৭:০৫   ৭০৯ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)