জামানাত ছাড়াই কৃষককে ঋণ দেয়া যায় - কৃষিমন্ত্রী

প্রথম পাতা » কৃষি ও বাণিজ্য » জামানাত ছাড়াই কৃষককে ঋণ দেয়া যায় - কৃষিমন্ত্রী
রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২



---

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রকৃত কৃষককে আরো সহজ শর্তে জামানাত ছাড়াই ঋণ দেয়া যায়। সরকার কৃষিখাতে ৪ শতাংশ স্বল্প সুদে কৃষকদেরকে ঋণ দিচ্ছে। কিন্তু এ ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান কঠিন শর্ত অনেক সময়ই কৃষক পূরণ করতে পারে না। সেজন্য ঋণ দেয়ার পদ্ধতি আরো সহজ করতে হবে।

আজ রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাণিসম্পদ খাতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে আমাদের অবস্থান ও করণীয় শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আদর্শ প্রাণিসেবা লিমিটেড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রাণিসম্পদে অবশ্যই বিমা প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একটি গাভির দাম ৫-১০ লাখ টাকা। সেজন্য প্রাণিসম্পদে অবশ্যই বিমা হওয়া উচিত। তবে বিমা কোম্পানির ওপর দেশের মানুষের বিশ্বাস নেই। তারা গ্রাহককে ব্যাপকভাবে হয়রানি ও প্রতারণা করে। এই হয়রানি ও প্রতারণা বন্ধ করে বিমাকে গ্রাহকবান্ধব করতে হবে। বিমাতে মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করতে হবে।

ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এটি সাময়িক; এবং শিগগিরই দাম কমে আসবে বলেও মন্ত্রী জানান। ভোজ্যতেলের উৎপাদন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে ভোজ্যতেলের চাহিদা শতকরা ৪০ ভাগ দেশে উৎপাদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

সেমিনারে কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ হারুন পাশা, কৃষিবিদ আওলাদ হোসেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও বিমা বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা শেখ, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়সার হামিদ বক্তব্য রাখেন।

আলোচকগণ প্রাণিসম্পদ খাতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ঋণ ও বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, কৃষিঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকারদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। এছাড়া, গ্রাম পর্যায়ে এখনো বেশিরভাগ ব্যাংক শাখা স্থাপন করেনি। অন্যদিকে, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহ (এমএফআই) ও এনজিওগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ নিয়ে গ্রাম পর্যায়ে ২০-২৫ শতাংশ চড়া সুদে ঋণ বিতরণ করে থাকে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিডোর ন্যাশনাল প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আইনুল হক। প্রবন্ধে জানানো হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদখাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা মোট কৃষিঋণের ১৪ শতাংশ। প্রাণিসম্পদ খাতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে মূল বাধা হলো ঋণ প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত জটিলতা, জামানাতজনিত জটিলতা, প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর অনীহা, মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, প্রাণিসম্পদের মৃত্যুঝুঁকি, বিমার প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা না থাকা প্রভৃতি।

প্রবন্ধে আরো বলা হয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিগত ১৩ বছরে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তারপরও প্রাণী প্রতি গড় মাংস ও দুধ উৎপাদনে উন্নত দেশের তুলনায় এখনো বাংলাদেশ পিছিয়ে। এছাড়া, প্রতিবছর প্রায় এক লাখ টনেরও বেশি গুড়াদুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি করতে হয়, যাতে খরচ হয় বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ সময়: ২১:১০:১৮   ৭২ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

কৃষি ও বাণিজ্য’র আরও খবর


চালের বাজারে ফিরেছে স্বস্তি
কৃষিসেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত
অসাংবিধানিক পদ্ধতিতে সরকার পতন হবে না : কৃষিমন্ত্রী
সমতল ভূমিতে কমলা বাগান
জয়পুরহাটে ৫০ হেক্টর জমিতে এবার তিলের চাষ হয়েছে
কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : কৃষিমন্ত্রী
বাংলাদেশ এখন বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল নয় : কৃষিমন্ত্রী
কুমিল্লায় রোপা আমনের মাঠে সবুজ হাসি
কৃষিখাতে বিনিয়োগে বিদেশী উদ্যোক্তাদের প্রতি কৃষিমন্ত্রীর আহবান
৪৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ