
পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেছেন, সমাজে খারাপ কিছুর পরিচর্যা করতে হয় না, সেটা আগাছার মতো আপনা আপনি জন্ম নেয়। পরিচর্যা করতে হয় ভালো কাজের। ভালো কাজের প্রশংসা, সমর্থন ও লালন-পালন করতে হয়।
শুক্রবার সকাল ‘থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত অদেখা রোগীদের খুঁজে বের করি এবং তাদের পাশে দাঁড়াই’ -এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পাবনা প্রেসক্লাবের ভিআইপি অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, সুলতান আহম্মেদ নিজের সম্পদকে ব্যক্তিগত উপার্জনের জন্য ব্যবহার না করে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে চান। এজন্য আমি তাকে অভিবাদন জানাই। আমি তার পাশে আছি। রোগীদের বলবো, আপনারা হতাশ হবেন না। সমাজ আমাদের পাশে থাকবে, আল্লাহ তো আমাদের সাথেই আছেনই। আমাদের মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে হবে, যেন আমরা সবাই সবাইকে গ্রহণ করতে পারি এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।
আয়োজক সংগঠন প্রস্তাবিত থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আহম্মেদ সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সমন্বয়কারী শামীম পারভেজের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি
হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) লিটন ঢালী, ড্যাব পাবনার সাধারণ সম্পাদক ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বৈশাখী, পাবনা জজ কোর্টের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট শাহজাহান আলী এবং সহকারী অধ্যাপক ও জুলাই যোদ্ধা শাবানা খাতুন।
প্রধান আলোচক ছিলেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) সরোয়ার জাহান ফয়েজ বলেন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। রোগীদের নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয় এবং এজন্য বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দরিদ্র পরিবারের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। তারা এই রোগের সুচিকিৎসার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা চান।
বক্তারা সরকারি উদ্যোগে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান, দাতাদের সহায়তায় একটি ফান্ড গঠন এবং পাবনায় প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় কুমার বীর, জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টুসহ থ্যালাসেমিয়া রোগী, তাদের আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কর্মীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার অন্তরা।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৭:১৩ ৮ বার পঠিত