![]()
জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বার্ষিক সম্মেলন সোমবার শুরু হয়েছে।
প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস ও ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনার সদস্যপদ প্রত্যাহার ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা।
নেদারল্যান্ডসের পতাকাবাহী একটি ক্রুজ জাহাজে বিরল হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় না থাকলেও আলোচনায় এটি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, এই প্রাদুর্ভাবের ঘটনাগুলোকে ডব্লিউএইচও আলোচনা বা কূটনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনাকে সংস্থা না ছাড়ার চাপ দেওয়ার বিষয়ও থাকতে পারে।
শনিবার পর্যন্ত চলা ডব্লিউএইচও’র বার্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এ সম্মেলন এমন সময়ে হচ্ছে, যখন সংস্থাটি কঠিন বছর পার করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত প্রত্যাহার এবং অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সংস্থাটি বাজেট ও জনবল কমাতে বাধ্য হয়েছে।
তবে এপ্রিলের শেষ দিকে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিসুস বলেন, ‘আমরা এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছি এবং এগিয়ে যাচ্ছি।’
কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকরাও একই মত দিয়েছেন।
জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল হেলথ সেন্টারের সহ পরিচালক সুরি মুন এএফপিকে বলেন, পরিস্থিতি এখনও নাজুক, তবে আগামী দু’বছরের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের বেশিরভাগ সংগ্রহে তারা সফল হয়েছে।’
তিনি বলেন, বিশ্ববাসীর জন্য যে একটি কার্যকর, বিশ্বস্ত, নিরপেক্ষ ও নিয়মিত অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউএইচও দরকার হান্টাভাইরাস সংকট সেটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে।
-যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনার প্রত্যাহার-
উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিরোধের কারণে ডব্লিউএইচওর ২০২৫ সালের যুগান্তকারী মহামারি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে অগ্রগতি থেমে আছে। যদিও আলোচনার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনার ঘোষিত প্রত্যাহার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে প্রথম দিনই ডব্লিউএইচও থেকে সরে যাওয়ার নোটিশ দেন। পরে একই পথে হাঁটে আর্জেন্টিনা।
তবে সংস্থার গঠনতন্ত্রে প্রত্যাহারের কোনো ধারা না থাকায় ডব্লিউএইচও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি।
১৯৪৮ সালে ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহারের অধিকার সংরক্ষণ করেছিল। তবে শর্ত ছিল এক বছর আগে নোটিশ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের সব বকেয়া পরিশোধ করা।
কিন্তু নোটিশের সময়সীমা শেষ হলেও ওয়াশিংটন এখনও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের চাঁদা পরিশোধ করেনি। তাদের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ২৬ কোটি ডলার।
গত জানুয়ারিতে ডব্লিউএইচও’র নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে ইসরাইল আর্জেন্টিনার প্রত্যাহার অনুমোদনের প্রস্তাব তোলে। বিষয়টি এবারের সম্মেলনেও আলোচনায় আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।
কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র আদৌ সংস্থা ছেড়েছে কি না—এ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকাই ভালো বলে মনে করেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা আশা করছি, যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়টি নীরবে উৎরে যাবে।’
-নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা-
আগামী বছর ডব্লিউএইচওর নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ার মধ্যেই এবারের সম্মেলন হচ্ছে।
এখনও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতা ঘোষণা না করেনি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমার শেষ দিন। তাই চলতি সপ্তাহেই প্রার্থীদের নাম জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন, ফিলিস্তিন এবং ইরান বিষয়ক একাধিক স্পর্শকাতর প্রস্তাবও আলোচনার টেবিলে রয়েছে, যা তুমুল বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
এ সপ্তাহের আলোচনার বড় অংশজুড়ে থাকবে তথাকথিত ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কাঠামো’ সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে। যদিও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা ও কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তিকে এই কাঠামোর মূল দুর্বলতা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মহামারি প্রস্তুতি ও সাড়াদান বিষয়ক স্বাধীন প্যানেলের সহ সভাপতি এবং নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক এএফপিকে বলেন, ‘কোন কাজ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সবচেয়ে ভালোভাবে করা যায় এবং কোনটি জাতীয় দায়িত্ব—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।’
কানাডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্জোরি মিশেল বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সরে যাওয়ায় তৈরি সংকট ডব্লিউএইচওকে সদস্যদের সঙ্গে মিলে নিজেদের কৌশল নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ করে দিচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিল কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জলবায়ু এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকারের মতো বিষয়গুলো যেন বাদ না পড়ে তা নিশ্চিত করা আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্র বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করাই লক্ষ্য, যাতে কোনো কার্যক্রম বা জনগোষ্ঠী পিছিয়ে না পড়ে।’
তবে নলেজ ইকোলজি ইন্টারন্যাশনাল এনজিওর থিরু বালাসুব্রামানিয়াম এএফপিকে বলেন, ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যে ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসহ কিছু কার্যক্রম সীমিত করে ফেলেছে।’
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৪:৩৬ ১১ বার পঠিত