শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

কর্ণফুলীতে সংঘর্ষে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৫

প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » কর্ণফুলীতে সংঘর্ষে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৫
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬



কর্ণফুলীতে সংঘর্ষে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৫

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকায় চুলার ধোঁয়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইব্রাহিম (৬০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
ইতিমধ্যে এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শিকলবাহা এলাকার তালতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত ইয়াকুবের ছেলে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিমের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আলী আজগরের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
গত ২৩ মে সকালে ইব্রাহিমের রান্নাঘরের চুলার ধোঁয়া প্রতিবেশীর ঘরে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ইব্রাহিম গুরুতর আহত হন।
হামলায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্বজনরা আহত ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে টানা চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর নিহতের ছেলে মো. তহিদুল ইসলাম আজাদ বাদী হয়ে ২৫ এপ্রিল কর্ণফুলী থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ আলী আজগর (৫০), তার স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম (৪৩), ছেলে আশ্রাফ আলী (২৫), তারেকুল ইসলাম তুষার (২৭) এবং নিশাত (২৮) নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তাদের মধ্যে নিশাত জামিনে মুক্তি পেলেও অন্য আসামিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

নিহতের ছেলে মো. তহিদুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বাবার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা গেছেন। আমরা জড়িত সব আসামির গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আলী আজগরের পরিবার এলাকায় বিভিন্ন সময় নানা বিরোধে জড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্ণফুলী থানার এসআই মো. আশিক হায়দার বাকী বলেন, ‘আহত ব্যক্তির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৪:১২   ১০ বার পঠিত