বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

টিটা ভাসমান সেতু বাওড়ের জলে নতুন প্রাণের স্পন্দন, অবমুক্ত ৬৮০ কেজি দেশীয় মাছের পোনা

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » টিটা ভাসমান সেতু বাওড়ের জলে নতুন প্রাণের স্পন্দন, অবমুক্ত ৬৮০ কেজি দেশীয় মাছের পোনা
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬



টিটা  ভাসমান সেতু বাওড়ের জলে নতুন প্রাণের স্পন্দন, অবমুক্ত ৬৮০ কেজি দেশীয় মাছের পোনা

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : বাংলার নদ-নদী, খাল-বিল ও বাওড় একসময় ছিল দেশীয় মাছের অফুরন্ত ভাণ্ডার। সময়ের পরিবর্তন, পরিবেশগত নানা সংকট ও জলাশয়ের অব্যবস্থাপনার কারণে সেই ঐতিহ্যের অনেকটাই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। হারানো সেই জলজ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ এলাকার টিঠা ভাসমান সেতু বাওড়ে ৬৮০ কেজি দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (১০ জুন) দিনব্যাপী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) এর অর্থায়নে আলফাডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য দপ্তরের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির আওতায় পাবদা, গুলশা, টেংরা ও শিং—এই চার প্রজাতির মাছের ১৭০ কেজি করে মোট ৬৮০ কেজি পোনা টিঠা ভাসমান সেতু বাওড়ে অবমুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব পোনা বড় হয়ে জলাশয়ের প্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করবে এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক ময়েদুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু।

স্বাগত বক্তব্যে তরুণ বসু বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ আমাদের জলজ পরিবেশ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় ও সংকটাপন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ ফারুক ময়েদুজ্জামান বলেন, সরকার দেশীয় মাছ ও শামুক সংরক্ষণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত হতে হবে এবং অভয়াশ্রম ও প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। মাছের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ পাবে। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের আবাসস্থল রক্ষায় প্রশাসন সবসময় সচেষ্ট থাকবে। জলাশয় দখল ও দূষণ রোধে সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে সবচেয়ে বড় শক্তি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, আলফাডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা এস এম রিদওয়ানুন্নবী রেদওয়ান, আলফাডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এস এম হাফিজুর রহমান, আলফাডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অফিস সহকারী রিফাত মিয়া, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান দাউদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মৎস্যজীবী, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ টিঠা ভাসমান সেতু বাওড়ের জলে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পোনা পানিতে ছড়িয়ে পড়ার সেই দৃশ্য উপস্থিত সবার মাঝে এক অনন্য অনুভূতির জন্ম দেয়। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, আজকের এই উদ্যোগ আগামী দিনে বাওড়টিকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৯:১১   ৩৪ বার পঠিত