![]()
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার (২৩ জুন) বলেছেন যে, ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কোনো টোল বা শুল্ক আদায় মেনে নেবে না। এদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, পারমাণবিক পরিদর্শন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ ইরান যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় প্রাথমিক পর্যায়েই টানাপোড়েনকে বাড়িয়েছে।
সংঘাত বন্ধ করতে গত সপ্তায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনা শেষ করেছে, যার ফলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ শুরু হলে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে তেহরান। এতে সামুদ্রিক যান চলাচল রুদ্ধ হয়, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়ে যায়। অবশ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে নতুন করে যাতায়াত বাড়তে শুরু করেছে।
তবে, ইরান বারবার জোর দিয়ে বলে আসছে যে, তারা এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
মঙ্গলবার তেহরান ও ওমান এক যৌথ বিবৃতিতে জানায় যে, তারা এই বাণিজ্য পথের প্রশাসন এবং পরিষেবার জন্য ধার্যকৃত মূল্য খতিয়ে দেখবে এবং একই সাথে প্রণালীটির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবিতে অটল থাকবে।
তবে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি আঞ্চলিক সফরের শুরুতে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ মানবে না।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। কোনো দেশই একটি আন্তর্জাতিক জলপথে টোল বা মাশুল আরোপ করতে পারে না।’
তেহরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এর আগে বলেছিলেন, হরমুজ তেহরানের অধীনে পরিচালিত হবে এবং তা খোলা রাখার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনে উভয় পক্ষ সম্মত হলেও, এটি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থায় ‘কখনোই ফিরবে না’।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে কূটনীতি পুরোদমে শুরু হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান সফর করেন, রুবিও উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে সফর শুরু করেন এবং লেবানন ও ইসরাইলের ওয়াশিংটনে আরও সরাসরি আলোচনা শুরু করার কথা।
কিন্তু তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অংশ হবে না।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৩২:৪২ ১০ বার পঠিত