![]()
মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনগণের ওপর একটি অকার্যকর ও সরকারনিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার কমিশন চাপিয়ে দেওয়া হলে তা সরকারের জন্যই আত্মঘাতী হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬: হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) ও টিআইবির পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক অধিপরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে তার নেতিবাচক পরিণতি শেষ পর্যন্ত সরকারকেই ভোগ করতে হয়। নিজেদের জন্য ‘ফ্র্যাঙ্কস্টাইন’ তৈরি করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কারণ, ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়। আজ দলীয় প্রভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করা হলে ভবিষ্যতে সেই ব্যবস্থার ক্ষতিকর প্রভাব সংশ্লিষ্টদেরই মোকাবিলা করতে হবে।
খসড়া আইন পর্যালোচনা করে ১৯টি সুপারিশ সভায় তুলে ধরেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, খসড়ার ১৩ নম্বর ধারায় কমিশনের তদন্ত, পরিদর্শন ও তদারকির ক্ষমতার আওতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা ও নজরদারি সংস্থার সম্ভাব্য গোপন আটককেন্দ্র বা তথাকথিত ‘আয়না ঘর’-এর মতো স্থাপনা পরিদর্শনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে গোপন আটক বা অবৈধ আটকের অভিযোগ তদন্তে কমিশনের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এছাড়া খসড়ার ২০ নম্বর ধারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত থাকার বিষয়েও আপত্তি জানায় টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়া অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করা হলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে না। বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি স্বৈরাচার সরকার আছে কিন্তু কোথাও রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এভাবে দলীয়করণ করে ধ্বংস করা হয় না। এই সরকার অভ্যুত্থানপরবর্তী সরকার, তাদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আশা করি তারা জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করবে না।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৬:৫৩ ১০ বার পঠিত