
বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আজ শনিবার জেলা শহরের এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে আয়োজিত ‘আলোকিত লালমনিরহাট, আমাদের অঙ্গীকার’ শীর্ষক নবজাগরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, মাদকের আগ্রাসনে আমাদের সমাজ পরাভূত হচ্ছে। আমাদের যুব সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গত ১৫-১৬ বছরে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু কেউ মাথা নত করেননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই আন্দোলনের বিজয় এসেছে। এখন পরিকল্পিতভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সময়।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এ অঞ্চলের মানুষ নতুন জীবন ফিরে পাবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, আগামী খুব শিগগিরই লালমনিরহাট জেলার প্রতিটি এলাকায় মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এরপরও যারা সংশোধন হবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংস হলে একটি জাতি কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে নিবন্ধিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং একদিন এটি দেশের অন্যান্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়বে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’’ সভাপতি মুহা. রাশেদুল হক প্রধান। জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা কমিটির প্রায় ৩ হাজার ১০০ স্বেচ্ছাসেবী সদস্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর সকল সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।
পরে এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৫:৫৪ ৭ বার পঠিত