সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

যমুনার স্রোতে ভেসে গেল শত শত পাটের জাগ, সরিষাবাড়ীতে ৪ শতাধিক কৃষক দিশেহারা

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » যমুনার স্রোতে ভেসে গেল শত শত পাটের জাগ, সরিষাবাড়ীতে ৪ শতাধিক কৃষক দিশেহারা
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬



যমুনার স্রোতে ভেসে গেল শত শত পাটের জাগ, সরিষাবাড়ীতে ৪ শতাধিক কৃষক দিশেহারা

জামালপুর প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণ ও যমুনা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় পাটচাষিরা। নদীর প্রবল স্রোত ও কচুরিপানার তীব্র চাপে ভেসে গেছে বিভিন্ন এলাকার শত শত পাটের জাগ এবং তিনটি ডিঙ্গি নৌকা। এতে উপজেলার অন্তত চার শতাধিক কৃষক ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কয়েক মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে বোনা ‘সোনালি আঁশ’-এর স্বপ্ন মুহূর্তেই নদীর স্রোতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে এখন চরম হতাশা ও কান্না নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার সাতপোয়া, কামরাবাদ ও পোগলদিঘা ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামে এই বিপর্যয় ঘটে। পাট পচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর উদ্দেশ্যে কৃষকরা নদীতে জাগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আকস্মিকভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোত ও কচুরিপানার ধাক্কায় জাগগুলো ভেসে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে— চর সরিষাবাড়ী, শিশুয়া পশ্চিমপাড়া, বাঘমারা, চর আদ্রা, ছাতারিয়া ও হেলেঞ্চাবাড়ী। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আব্দুল মান্নান মোল্লা, আসকেত আলী, জামাল উদ্দিন, উম্মত আলী, শহিদুল্লাহ, মাসুদ, সাইফুল, নুরুল ইসলাম, খোকা মিয়া ও জালাল উদ্দিনসহ বহু চাষি রয়েছেন।
সোমবার(১৩ জুলাই) সকাল থেকে অনেক কৃষক নদীর বিভিন্ন প্রান্তে হেঁটে বা ডিঙ্গি নৌকায় করে নিজেদের পাটের জাগ খুঁজে বেড়ান। তবে দুই-একজন আংশিক উদ্ধার করতে পারলেও, অধিকাংশেরই কোনো খোঁজ মেলেনি।

চর সরিষাবাড়ী গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক আব্দুল মান্নান মোল্লার দুটি পাটের জাগ ভেসে যাওয়ায় তিনি তা খুঁজতে বের হন। খুঁজতে খুঁজতে পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া এলাকায় গিয়ে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং অজ্ঞান হয়ে যান। তাঁর ছেলে মানিক মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মতে, এই আকস্মিক দুর্যোগে তাঁদের প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই ঋণ বা ধারদেনা করে পাটের আবাদ করেছিলেন। এখন সবকিছু হারিয়ে পরিবার নিয়ে তাঁরা অথৈ সাগরে পড়েছেন। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তারা জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরিষাবাড়ীতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর। তবে অতিবৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম, অর্থাৎ ৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, “অতিবৃষ্টি ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু এলাকায় পাটের জাগ ভেসে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। মাঠ পর্যায় থেকে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে দ্রুতই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তহবিল থেকে সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০:৫৩:২৫   ৫৮ বার পঠিত