
বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বিদ্যমান, তা বেগম খালেদা জিয়ারই অবদান।
মঙ্গলবার বিকেলে নবনিযুক্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন।
শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে উপস্থিত হয়ে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক এবং নবনিযুক্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা সঙ্গে ছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া এমন দু’জন ব্যক্তিত্ব যাদের পরিচয় এখন আর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর জিয়াউর রহমান দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রচলন এবং সংবাদপত্রের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করেছিলেন। অন্যদিকে, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারই হবে আমাদের মূলমন্ত্র। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি সাধারণ নিপীড়িত মানুষ যেন আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পায়, সেটি নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।
এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপতথ্য বা খণ্ডিত তথ্য দিয়ে যেন দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একইসঙ্গে নবনিযুক্ত আইন কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
এর আগে গত ৩০ জুলাই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ পৃথক দু’টি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মাধ্যমে পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেয় সরকার।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৬:৪৬ ৩ বার পঠিত