মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬



শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এই আয়োজনটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থার এবং এতে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বা সংশ্লিষ্টতা নেই।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসব কথা বলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক, ভূ-রাজনীতি, সীমান্ত ইস্যু এবং সিন্ধু ও গঙ্গার পানি চুক্তি সম্পর্কিত একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

বুধবার (৫ আগস্ট) দিল্লিতে একটি বেসরকারি গণমাধ্যম আয়োজিত সম্মেলনে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ওই অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি উদ্যোগ। ভারত সরকারের এর সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা বা লেনদেন নেই এবং সেখানে প্রকাশিত কোনো মতামতের দায় বা সমর্থন সরকারের নেই।

এর আগে ঢাকা থেকে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বসে এমন কোনো বক্তব্য বা রাজনৈতিক তৎপরতা চালাতে দেওয়া উচিত নয়, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে ভারতে সফরের যে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তা বহাল রয়েছে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের (BIMSTEC) বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তার অর্পিত ক্ষমতার ভিত্তিতেই তাকে আগামী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি। এটি ব্রিকসের নিয়মিত বৈশ্বিক কাঠামোরই একটি অংশ।

বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি যৌথ নদী রয়েছে। গঙ্গা চুক্তিসহ যেকোনো পানিসম্পদ সংক্রান্ত আলোচনা যৌথ নদী কমিশন এবং দুই দেশের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যমান কূটনৈতিক ও কারিগরি কাঠামোর মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে সকালে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো গণমাধ্যম যেন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, সে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আদালতের আদেশ অমান্য করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এর আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার।
কেউ যদি আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরে তা প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।

তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

তিনি আরো বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না—এটি তার ব্যক্তিগত মতামত। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে আদালতে গিয়ে সেই আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ তা সবাইকে মেনে চলতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪১:১৪   ৬ বার পঠিত