![]()
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান।
শনিবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শিল্প সচিব বলেন, ‘জাহাজের ভেতরে স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় বেশি হাইড্রোজেন সালফাইড পাওয়া গেছে। কীভাবে এ গ্যাস সেখানে জমেছিল এবং দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তিনি জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের কমিটি করেছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে নয় সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি।
শিল্প সচিব বলেন, ‘দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তার বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে তদন্ত কমিটিগুলোকে বলা হয়েছে। তদন্তে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিরাপদে অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাহাজটি নিরাপদ করার কাজটি সতর্কতার সঙ্গে করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা হবে।’
শনিবার সকালে শিল্প সচিবের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে নিহত কয়েকজন শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের সকালে থানায় ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
গত শুক্রবার ভাটিয়ারীর ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর থেকেই জাহাজটি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গ্যাসের উৎস ও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৬:২৮ ৮ বার পঠিত