![]()
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই বাংলাদেশের প্রতিটি খুনের বিচার হবে, এই বাংলাদেশের প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে। সেই বিচারের পথ ধরে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। সেই বিচার কোনো গোপন বিচার হবে না, ন্যায়বিচার হবে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির দশতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা-গায়েবি মামলা করা হয়েছিল। যে মামলার আসামির তালিকায় এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি ২০ বছর আগে মারা গেছেন, এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি পবিত্র কাবা শরীফে হজে ছিলেন, তাদেরকে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, সমস্ত বাধার প্রাচীর পেরিয়ে জেন-জি জেনারেশন, এই প্রজন্ম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যে নামেই আমরা ডাকি না কেন, আমাদেরকে এমন একটি বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছে, যে বাংলাদেশ পেতে আমাদের মাঝ থেকে ১৪০০ মানুষকে হারাতে হয়েছে, যাদেরকে পাখির মতো গুলি করে রাজপথে জুলাই মাসের ১৫ দিন এবং আগস্ট মাসের প্রথম ৫ দিন- এই ২০ দিনে হত্যা করা হয়েছে। এই বাংলাদেশ উপহার দিতে যেয়ে এই ২০ দিনে ৩০ হাজারের মতো সাহসী তরুণ পঙ্গু হয়েছে। কারও হাত নাই, কারও পা নাই, কারও মাথা নাই, কারও মাথার খুলি উড়ে গেছে, ভেতরে কোনোভাবে ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে- তার খুলিটা যাতে থাকে, মগজটা যাতে থাকে, কারও চোখ নাই। এদের রক্তের বিনিময়ে, এদের ত্যাগের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, এই বাংলাদেশ নিয়ে আমরা ছেলেখেলা করতে পারি না। এই বাংলাদেশ নিয়ে আমরা আর ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার কোনো পথ সুগম করতে পারি না। আমরা যদি ব্যর্থ হই, কাপুরুষের রূপ ধরে বেঁচে থাকবো।
আইনমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথ দখল করেছিল। বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন- দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও। সেই দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে স্বৈরাচারী হাসিনার আমলে আমরা আমাদের মাঝ থেকে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন, তার সবকিছু এসেছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবারের হাত ধরে।
দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে গোটা বিশ্ব বিপর্যস্ত। বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। গ্যাস ও এলএনজি আমদানিতেও নানা সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেও সরকার পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, গ্যাস আসতে দেওয়া হচ্ছে না। এলএনজি যেসব দেশ থেকে আনা হতো, হুরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। এত কিছুর মধ্যেও আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি এবং ঘুরে দাঁড়িয়েছি।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা বলছি না সংকট নেই। আমরা বলছি সংকট আছে এবং সংকটের সমাধানের উপায়ও আমরা নিরন্তরভাবে বের করার চেষ্টা করছি। আমরা মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিই না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যতটুকু পারেন, ততটুকু দেন এবং ততটুকুই বলেন।
তিনি বলেন, ভোটের মাঠে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবকদের জন্য মাসিক ভাতার কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই বছরের মধ্যে সারা বাংলাদেশে ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকন কুদ্দুসুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমনসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৯:৩৮ ৪ বার পঠিত