![]()
ব্যাট হাতে শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। এক ওভারেই তিনটি বাউন্ডারি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ওভারের শেষ বলেই বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়তে হলো যশস্বী জয়সোয়ালকে। আর তাঁর বিদায়ের সময় ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা এখন কলম্বো টেস্টের আলোচনার কেন্দ্রে। এই ঘটনার জন্য স্বয়ং ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটারদের রোশানলে পড়েছেন জয়সোয়াল।
শ্রীলঙ্কার পেসার আসিথা ফার্নান্দোর বলে ৪৫ রান করে বোল্ড হন জয়সোয়াল। টানা তিন বাউন্ডারি দেওয়ার পর উইকেট পাওয়ার পর ফার্নান্দোর আগ্রাসী উদযাপন পছন্দ হয়নি ভারতীয় ওপেনারের। পেছন ফিরে তিনি সরাসরি বোলারের দিকে এগিয়ে যান। শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, একপর্যায়ে পরিস্থিতি প্রায় শারীরিক সংঘাতের দিকে গড়ায়। পরে দুজনকেই ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা এবং একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট দেয় আইসিসি।
ঘটনার পরও অবশ্য থামেনি বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জয়সোয়াল লেখেন, ‘ভারত জানে কীভাবে জবাব দিতে হয়।’ তাঁর ইঙ্গিত ছিল, ক্যামেরায় যতটা দেখা গেছে, ঘটনার পেছনে ছিল আরও অনেক কথা। কিন্তু এই ব্যাখ্যাও সন্তুষ্ট করতে পারেনি ভারতের সাবেক ক্রিকেটারদের একটি অংশকে।
চেতেশ্বর পুজারা ঘটনাটির ব্যাপারে বলেব, ‘এটি ক্রিকেটের কোনো আদর্শ দৃশ্য নয়। খেলোয়াড়দের নিজেদের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। হতাশা থাকা পর্যন্ত মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু বিষয়টি যখন একে অপরের মুখোমুখি হওয়া এবং শারীরিক সংস্পর্শে গড়ায়, মাঠে এমন কিছু মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’
আরও কড়া অবস্থান নিয়েছেন সাবা করিম। তাঁর বক্তব্য, ক্রিকেটে আগ্রাসন থাকতে পারে, কিন্তু সেটির প্রকাশে সীমা থাকা জরুরি। তিনি বলেন, ‘তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত যে এটি ক্রিকেট, এখানে কেউ কাউকে ধাক্কা দিতে আসেনি। বোলাররা আক্রমণাত্মক হতেই পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করার দায়িত্ব সবারই রয়েছে।’
ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলেও তরুণ ক্রিকেটারদের আরও সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। একই সুর আকাশ চোপড়ার কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘লড়াই ও আবেগ ক্রিকেটের অংশ হলেও মাঠে আচরণের একটি সীমারেখা থাকা দরকার।’
বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৩:১০ ১৮ বার পঠিত