রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

জামালপুরে আধিপত্য ও বালু উত্তোলন নিয়ে বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলি সহ আহত ১১

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » জামালপুরে আধিপত্য ও বালু উত্তোলন নিয়ে বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলি সহ আহত ১১
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬



জামালপুরে আধিপত্য ও বালু উত্তোলন নিয়ে বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলি সহ আহত ১১

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও এলাকাগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফাঁকা গুলিবর্ষণসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

​সংঘর্ষে আহতরা হলেন—এক পক্ষের ইউনিয়ন বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ মিয়া, সদস্য চাঁন মিয়া, ডা. মাজহারুল ইসলাম মুকুল, আনিসুর রহমান আনিস, বাবু মিয়া ও হুমায়ুন কবির। অপর পক্ষের আহতরা হলেন—পিংনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সরকার, বায়েজিদ, সামাল মিয়া, শিবলু মিয়া এবং সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য জামালপুর ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পিংনা কাওয়ামারা এলাকার রসপাল মৌজায় যমুনা নদীর জেগে ওঠা চরের পাশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাম্যমাণ বাল্কহেড ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছিলেন ছাত্রদল নেতা সুভাষ সরকার। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ বাধা দিলেও তিনি তা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বালু তুলে যাচ্ছিলেন।

​এরই জেরে শনিবার রাত ৯টার দিকে বালু উত্তোলনকারী একটি বাল্কহেড আটক করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে সুভাষ সরকারের নেতৃত্বে প্রায় ১৫টি মোটরসাইকেলে ২৫-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় এসে অতর্কিত হামলা চালায়। আতঙ্ক ছড়াতে তারা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং রামদা ও জিআই পাইপ দিয়ে দেশীয় অস্ত্রে প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরদিন রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে আটককৃত বাল্কহেডটি নিতে আসলে সুভাষের ৩ সহযোগীকে স্থানীয় জনতা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। স্থানীয় কৃষকদল সদস্য শামীম মিয়া বলেন, “সুভাষ সন্ত্রাসী কায়দায় জোরপূর্বক বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করায় সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। আমরা তার দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।”

​তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুভাষ সরকার বলেন, “বাল্কহেডটি আমার নয়, সরিষাবাড়ীর সোহাগ নামে এক ব্যক্তির। তিনি উদ্ধারের অনুরোধ জানালে আমি যাই। কিন্তু সেখানে পৌঁছানো মাত্রই প্রতিপক্ষ আমাদের লোকজনের ওপর আগে হামলা চালায়।”

​এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। গুলিবর্ষণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৭:৩৫   ৫ বার পঠিত