বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : চিফ হুইপ

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : চিফ হুইপ
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬



মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : চিফ হুইপ

ভারতের সঙ্গে মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও উভয় দেশের জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। আমরা কোনো প্রতিবেশীকে উপেক্ষা করি না। বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যার সঙ্গে যে পদ্ধতিতে সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব, আমরা তা করতে চাই।’

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই দুই দেশের সম্পর্ক অবশ্যই পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে হতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না-প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশও প্রত্যাশা করে, কোনো প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না।

ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর যারা দেশে নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম, খুন, লুটপাট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অনেকে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভারত কোনো ধরনের আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেবে না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা আশা করি একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত মানবতাবিরোধী অপরাধীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেবে না।’

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং উভয় প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ের ওপর নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি নির্দিষ্ট কোনো তারিখের মধ্যে সফর করার শর্ত দেয়, সেটি একটি স্বাধীন দেশের জন্য বিব্রতকর।’

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পানি সমস্যা বিশেষ করে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে পানি সংকটের মুখোমুখি। তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ভারত তার নিজস্ব অবস্থান থেকে বিষয়গুলো সমাধানে এগিয়ে আসুক। পানি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই এ সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’

সীমান্তে প্রাণহানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রত্যেক মানুষের জীবন সমান গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধে ভারত আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভারতের সঙ্গে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে দলমত নির্বিশেষে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনে কোনো আপত্তি নেই। তিনি জানান, অতীতেও এ ধরনের কমিটি ছিল এবং দুই দেশের সংসদীয় কার্যক্রমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত বিল নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তির বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, কোনো বিলের বিরোধিতা করলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার জ্ঞান ও বিবেচনা দিয়ে সবচেয়ে ভালো বিলটি আনার চেষ্টা করছি। যদি কেউ মনে করেন এতে কোনো সমস্যা আছে, তাহলে সমস্যাটি নির্দিষ্ট করে বলুন। আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যেতে পারে।’

তিনি জানান, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত বিল নিয়ে আলোচনা করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, গণতন্ত্রে মতভেদ থাকবেই। তবে সেই মতভেদ সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। রাজপথে সংঘাত বা আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদকে বিতর্ক ও মতবিনিময়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের মতামত গড়ে উঠবে সংসদীয় কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা তাদের মতামত দেবেন, জনগণ তা দেখবে ও শুনবে এবং নিজেদের মতামত তৈরি করবে।’

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনায় রেখে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের এই ধারাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন দেশের স্বার্থে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি করে—এটাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৬:০৬   ৫ বার পঠিত