সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক নির্মূল করতে পুলিশ একা পারবে না: এসপি হাবিব

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » মাদক নির্মূল করতে পুলিশ একা পারবে না: এসপি হাবিব
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬



মাদক নির্মূল করতে পুলিশ একা পারবে না: এসপি হাবিব

নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূলে শুধু মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার নয়, মাদকের সরবরাহকারী ও আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন, মাদক নির্মূল করতে পুলিশ একা পারবে না। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘ইকোনমিক্সে একটি শব্দ আছে—আপনার ডিমান্ড না থাকলে সাপ্লাই কিন্তু আসে না। যেহেতু এখানে মাদকসেবী বেশি, তাই বিভিন্ন স্পটে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। আপনারা নিজেরাও বলেছেন, গত এক সপ্তাহে যারা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করতো, তারা ঘরের ভেতরে ঢুকে গেছে। আমরা এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।’

তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘শুধু সেবনকারী ধরলে মাদক নির্মূল হবে না। যারা সাপ্লাই দেয়, আপনারা তাদের তথ্য আমাদের জানাবেন। আমরা আমাদের ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে সেগুলো সংগ্রহ করব,’ বলেন তিনি।

তবে পুলিশের কাছে আসা সব অভিযোগ সরাসরি আমলে নেওয়া হয় না জানিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আপনারা মনে করতে পারেন এসপি সাহেব সবই জানে। এসপি সাহেব কিন্তু সবই জানে না। কারণ আমার কাছে যে তথ্যগুলো আসে, অনেক তথ্য কিন্তু ফ্যাব্রিকেটেড। অনেকের রাজনৈতিক সমস্যা থাকতে পারে। সামনে নির্বাচন, কেউ মেম্বার নির্বাচন করবে, চেয়ারম্যান নির্বাচন করবে। একজন আরেকজনকে ফাঁসাতে পারে। জমিজমা নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে, ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে। এরকম বহু কনফ্লিক্ট থাকতে পারে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে আমরা অ্যাকশনে যাব।’

মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনগত সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, পুলিশ মাদকসহ কাউকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর পর আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। ছোট পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তদন্তে জনবল ও লজিস্টিক সংকট তৈরি হয়।

এ কারণে মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে বড় মাদক কারবারিদের ক্ষেত্রে তাদের অর্থনৈতিক উৎস শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান পুলিশ সুপার।

মাদকসেবীদের পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশ ধরলাম, কোর্টে প্রেরণ করলাম। সে দুই মাস, ছয় মাস কিংবা ১৫ দিন পরে জেল থেকে বেরিয়ে এলো। বের হওয়ার পরে আবার একই পেশায় যুক্ত হলো। তাহলে কিন্তু এটা হবে না। এটা চোর-পুলিশ খেলা হয়ে যাবে।’

তিনি মাদকাসক্তদের জন্য মাদক নিরাময় ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

যানজট নিয়ন্ত্রণেও সমন্বয়ের তাগিদ

নারায়ণগঞ্জের যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একা সফল হতে পারবে না উল্লেখ করে এসপি বলেন, এখানে সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিষদ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথসহ বিভিন্ন সংস্থা ও পক্ষ জড়িত।

তিনি বলেন, যানজটের জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন। এরই মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।

‘অন্তত সহনীয় মাত্রায় কীভাবে এই শর্টটার্ম সলিউশন করা যায়, আমরা সেটা আমাদের দিক থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি,’ বলেন তিনি।

অটোরিকশা ও গ্যারেজ নিয়েও সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানান পুলিশ সুপার। গ্যারেজগুলো সরাসরি বন্ধ করার পরিবর্তে নজরদারি বাড়ানো এবং সেখানে থাকা ভাসমান লোকজন ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

‘ঘটনা ঘটলে পুলিশ তাৎক্ষণিক রেসপন্স করবে’

চাঁদাবাজির অভিযোগের উদাহরণ দিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ একজনকে ধরে আনলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মামলা করতে না চাইলে পুলিশকে জটিলতায় পড়তে হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই ঘটনা ঘটলে, কগনিজেবল অফেন্স হলে, তাৎক্ষণিকভাবে আমার পুলিশ রেসপন্স করবে এবং আমরা আইনের যথার্থ প্রয়োগ করব।’

কমিউনিটি পুলিশিংয়েও স্বচ্ছতা আনার কথা জানান তিনি। বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি থেকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান।

‘ডিসি-এসপির মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে কষ্ট পাবে নারায়ণগঞ্জবাসী’

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এখানে কে বড়, কে ছোট আমি কখনোই বিবেচনা করি না। এটা যদি আমরা কনফ্লিক্ট তৈরি করি, তাহলে কিন্তু কষ্ট পাবে নারায়ণগঞ্জবাসী।’

তিনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কাজ স্বাধীনভাবে করবেন এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন।

‘আমরা চাই সকলের সহযোগিতায় এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জকে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে একটি শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে,’ বলেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টির সঞ্চালনায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৫:১২   ১০ বার পঠিত