বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়ন চান ড. সাইমুম পারভেজ

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়ন চান ড. সাইমুম পারভেজ
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬



জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়ন চান ড. সাইমুম পারভেজ

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করার পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘উন্নয়ন পুনর্নির্ধারণ ও সহযোগিতা’ বিষয়ক চতুর্থ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) নেতাদের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ড. সাইমুম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী এবং সিভিএফ চেয়ার মিয়া আমোর মোটলি।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতিনিধিদলের প্রধানরা, উন্নয়ন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. সাইমুম ন্যায়বিচার, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সংহতির ভিত্তিতে একটি বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জোরালো ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।

বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির কথা তুলে ধরে সাইমুম বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, লবণাক্ততা এবং ঘূর্ণিঝড় ইতিমধ্যে কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আগামী দিনের কোনো শিরোনাম নয়; এটি আজ আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই।

জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে ড. সাইমুম ২০১১ সালের ঢাকা ঘোষণা থেকে শুরু করে ২০২১ সালের ঢাকা-গ্লাসগো ঘোষণা পর্যন্ত বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি কেন্দ্রে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে দেশের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যখন একসঙ্গে কথা বলে, তখন বিশ্ববাসী চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারে না।

সাইমুম বৈঠকে ‘ভালনারেবিলিটি টু ভায়াবিলিটি’ (ভি টু ভি) কমপ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান এবং ‘লাইফলাইন ফান্ড’-এর প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। জলবায়ু-প্ররোচিত বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য সংকটের মুখোমুখি দেশগুলোকে দ্রুত তারল্য সহায়তা দেওয়ার জন্য এই তহবিল তৈরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী জানান, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য একটিমাত্র বড় জলবায়ু দুর্যোগ বছরের পর বছর ধরে অর্জিত উন্নয়নের অগ্রগতি ধুলিস্যাৎ করে দিতে পারে। এ সময় জলবায়ুজনিত অভিঘাতে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম এমন আর্থিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

বৈঠকে ‘লাইফলাইন ফান্ড’ কার্যকর করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতিগুলোর জন্য সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

ড. সাইমুম বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

তিনি বাংলাদেশের জলবায়ু প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদানের (এনডিসি) অধীনে ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি।

জলবায়ু সংকট এবং আর্থিক দুরবস্থার সম্মিলিত চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ঋণের দায় মেটাতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অপরিহার্য খাতগুলো থেকে সম্পদ সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

আসন্ন ‘কপ৩১’-এর দিকে তাকিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য চারটি প্রধান অগ্রাধিকার তুলে ধরেন ড. সাইমুম।

তিনি একটি অনুমানযোগ্য, সহজ শর্তযুক্ত এবং ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামোর আহ্বান জানান; দ্রুত ও সহজে অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এর পূর্ণ কার্যকারিতা নিশ্চিত করার কথা বলেন; অধিকতর ঋণ মওকুফ ও সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার চান; এবং জলবায়ু কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) উপদেষ্টা মতামত কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

ড. সাইমুম জোর দিয়ে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে যেন মৌলিক উন্নয়ন চাহিদা পূরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা না হয়।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জলবায়ু পদক্ষেপকে সকলের জন্য টেকসই ও ন্যায়সংগত উন্নয়নের অনুঘটক হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৪০:৫৩   ১১ বার পঠিত