![]()
বন্দর (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের বন্দরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বেতন ও পরীক্ষার ফি কমানোর আবেদন প্রত্যাখ্যানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বন্দর ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের একপর্যায়ে অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ভবন ও কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর মাদরাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ফি কমানোর আবেদন বিবেচনা না করার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে ক্ষোভের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে অধ্যক্ষের কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এর পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের বেতন কমানোর আবেদন নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে যান ওই অভিভাবক। এ সময় তাঁকে অপমানজনক কথা বলা হয় এবং তাঁর আবেদনপত্র ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মাদরাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তাঁরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁর অপসারণ দাবি করেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করলে তিনি সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। পরে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রশাসনিক ভবনের থাই গ্লাস, জানালার কাচ, টেবিল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষেও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ভুক্তভুগী অভিভাবক বলেন, “আমার ছেলে এ বছর দাখিল দশম শ্রেণিতে পড়ে। আর্থিক অনটনের কারণে বেতন কিছুটা কমানোর আবেদন নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার কথা শোনার পর তিনি কটু কথা বলেন এবং আবেদনপত্রটি ছিঁড়ে ফেলেন। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি।”
আন্দোলনরত এর শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন। তাঁর ভাষ্য, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বেতন ও পরীক্ষার ফি নিয়ে জটিলতার কারণে অনেকে সমস্যায় পড়ছেন। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রতিকার না পাওয়ায় তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন। অধ্যক্ষের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
আলিম প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্সিপাল হুজুরের স্বেচ্ছাচারিতা ও খারাপ আচরণ সহ্য করে আসছি।আজকে তিনি আমাদের সহপাঠী ও তার অভিভাবকের সঙ্গে যে খারাপ ব্যবহার ও লাঞ্ছনা করেছেন, তা সহ্য করার মতো ছিল না।তাই আমরা প্রতিবাদ করেছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদরাসার এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, প্রতিষ্ঠানে একক সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ফি কমানোর বিষয়ে শিক্ষকদের মতামত দেওয়ার সুযোগও সীমিত বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
মাদ্রাসার একজন সহকারী শিক্ষক জানান, ‘প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই থমথমে ছিল। অধ্যক্ষ ও আরবি প্রভাষক রবিউল আউয়াল সাহেবের কিছু একক সিদ্ধান্ত ও ব্যবহারে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরেই অসন্তুষ্ট ছিলেন। তবে ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের এমন ঘটনা ঘটে যাওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এদিকে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। আগামী রবিবার এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০০:৫৭ ২৬ বার পঠিত