ফতুল্লায় মেঘনা-যমুনা ডিপো ঘিরে চোরাই তেলের রামরাজত্ব: নেপথ্যে প্রভাবশালী চক্র, প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » ফতুল্লায় মেঘনা-যমুনা ডিপো ঘিরে চোরাই তেলের রামরাজত্ব: নেপথ্যে প্রভাবশালী চক্র, প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬



ফতুল্লায় মেঘনা-যমুনা ডিপো ঘিরে চোরাই তেলের রামরাজত্ব: নেপথ্যে প্রভাবশালী চক্র, প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক

ফতুল্লা, (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : জাতীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বন্ধ হয়নি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মেঘনা ও যমুনা ডিপো কেন্দ্রিক চোরাই তেলের অবৈধ কারবার। বরং স্থান পরিবর্তন ও হাতবদলের মাধ্যমে এ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিপোর আশপাশে গড়ে উঠেছে প্রায় এক ডজন অবৈধ চোরাই তেলের দোকান, যেখানে দিন-রাত অবাধে চলছে চোরাই জ্বালানি কেনাবেচা।
ডিপোর গেট থেকেই তেল চুরি ও সরবরাহ

স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ডিপোর মূল ফটকের সামনে থেকেই সুবিধাজনক উপায়ে ট্যাংকলরি থেকে তেল চুরি করা হয়। সংগৃহীত সেই তেল দ্রুত পাঠানো হয় পার্শ্ববর্তী নির্দিষ্ট চোরাই তেলের দোকানগুলোতে এবং সেখানে মজুত করা হয়।

পরবর্তীতে রিকশা ও ভ্যানগাড়িতে করে এসব অবৈধ তেল পৌঁছে দেওয়া হয় বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানে। পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনে এই তেল বিক্রি করা হলেও মোটরসাইকেল চালকদের কাছেই সবচেয়ে বেশি চোরাই তেল বিক্রি হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মাসোহারা ও নেপথ্যের কারিগর

খোদ চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, এই সিন্ডিকেটের পেছনে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র। শ্রমিক নেতা পরিচয়ের আড়ালে লিটন, সালাউদ্দিন, দুলাল এবং সাবেক মেঘনা ডিপো নেতা ‘ফরিদপুইরা বাচ্চু’ নামে পরিচিত চার ব্যক্তি পুরো সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দোকানগুলো নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে এই চার প্রভাবশালীকে প্রতি মাসে নগদ ১ লাখ টাকা এবং ৫০ লিটার তেল মাসোহারা দিতে হয়।
বহাল তবিয়তে মূল হোতারা

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই চক্রের সক্রিয়তা কমেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লিটন, ফরিদপুইরা বাচ্চু ও সালাউদ্দিন ছিলেন এই চোরাই তেল কারবারের মূল নিয়ন্ত্রক। বর্তমানে দুলালকে সাথে নিয়ে এই চক্রটি তাদের অবৈধ ব্যবসা একইভাবে অক্ষুণ্ন রেখেছে।

ডিপো এলাকায় এই চোরাই ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হিসেবে স্বপন, রাজু, কালাম, ইব্রাহিম, বাবুল ও রায়হানের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ডিপোর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদের ফটকে এবং জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে এভাবে চোরাই তেলের রামরাজত্ব চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় প্রশাসনের এই নীরবতাকে ‘রহস্যজনক’ বলে মনে করছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১০:২০:৫২   ৩১ বার পঠিত  




ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


ফতুল্লায় মেঘনা-যমুনা ডিপো ঘিরে চোরাই তেলের রামরাজত্ব: নেপথ্যে প্রভাবশালী চক্র, প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক
আল কোরআন ও আল হাদিস
নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বস্তির জয়
জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্য সম্মেলন: ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জবাবদিহিতার মুখোমুখি বিশ্বনেতারা
মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন : ডা. জুবাইদা রহমান
বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় রটারডাম কনভেনশনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ
জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে ঢাকার ২০ জোনে হচ্ছে বিশেষ কমিটি
তখন কেন জানি মনে হচ্ছিল সব কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে : রিজভী
নাটোরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ