আজ আন্তর্জাতিক শেফ দিবস

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » আজ আন্তর্জাতিক শেফ দিবস
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬



আজ আন্তর্জাতিক শেফ দিবস

একটি খাবার কখনো কেবল স্বাদের জন্য মনে থাকে, কখনো আবার তার পেছনের গল্প, পরিবেশনা কিংবা নতুনত্বের কারণে হয়ে ওঠে বিশেষ। রান্নার এই জগতে শেফদের ভূমিকা তাই শুধু খাবার তৈরি করায় সীমাবদ্ধ নয়।
তাদের হাত ধরে বদলেছে রান্নার কৌশল, জনপ্রিয় হয়েছে বিভিন্ন দেশের খাবার, তৈরি হয়েছে নতুন স্বাদের ধারণা। কেউ রান্নাকে নিয়ে গেছেন টেলিভিশনের পর্দায়, কেউ ঘরের রান্নাকে করেছেন আরো সহজ, আবার কেউ খাবারের অপচয় কমানো ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিয়েছেন নিজের কাজের অংশ হিসেবে।

বিশ্বজুড়ে শেফদের এই অবদানকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর ২০ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক শেফ দিবস। ২০০৪ সালে ওয়ার্ল্ডশেফসের উদ্যোগে দিবসটি চালু হয়।
নতুন প্রজন্মকে রান্নার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং খাবারের উৎস ও পরিবেশের সঙ্গে এর সম্পর্ক তুলে ধরাও দিবসটির উদ্দেশ্য।

বিশ্বের পরিচিত কয়েকজন শেফ তাদের কাজের মাধ্যমে রান্নার জগতে রেখেছেন আলাদা ছাপ। তাদের অবদানেই রান্না অনেকের কাছে নিছক প্রয়োজনের কাজ না থেকে হয়ে উঠেছে সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি ও শেখার একটি মাধ্যম।

জুলিয়া চাইল্ড : ঘরের রান্নায় ফরাসি খাবারের পরিচয়

ফরাসি রান্নাকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মার্কিন শেফ, লেখক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব জুলিয়া চাইল্ড।
তার লেখা Mastering the Art of French Cooking বইটি ফরাসি রান্নার নানা কৌশল ও পদ্ধতি সহজভাবে তুলে ধরে। ১৯৬৩ সালে তার টেলিভিশন অনুষ্ঠান The French Chef প্রচার শুরু হলে ঘরে বসেই ফরাসি খাবার তৈরির কৌশল শেখার সুযোগ পান দর্শকেরা।

রান্নার সময় ভুল হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া এবং চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার সহজ-স্বাভাবিক উপস্থাপনা অনেককে রান্না শিখতে উৎসাহিত করেছে। জটিল মনে হওয়া রান্নাও ধাপে ধাপে শেখা যায়—এই ধারণা জনপ্রিয় করতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

জেমি অলিভার : সহজ রান্না ও স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রচার

ব্রিটিশ শেফ জেমি অলিভার পরিচিত সহজ উপকরণে সুস্বাদু খাবার তৈরির ধারণার জন্য।
টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও রান্নার বইয়ের মাধ্যমে তিনি ঘরে রান্না করা, তাজা উপকরণ ব্যবহার এবং খাবার সম্পর্কে জানার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছেন। তাঁর কাজের একটি বড় দিক হলো রান্নাকে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সহজভাবে যুক্ত করা, যাতে রান্নার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়া জরুরি না মনে হয়।

রান্নার পাশাপাশি শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও স্কুলের খাবার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগে পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং রান্না শেখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

গর্ডন রামসে: পেশাদার রান্নায় দক্ষতা ও শৃঙ্খলা

ব্রিটিশ শেফ গর্ডন রামসে রেস্তোরাঁ পরিচালনা, পেশাদার রান্না এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছেন। রান্নার মান, উপকরণের সঠিক ব্যবহার, সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং খাবার পরিবেশনের নিখুঁততা তাঁর পেশাগত কাজের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

রান্নাবিষয়ক বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নতুন ও অভিজ্ঞ রাঁধুনিদের দক্ষতা যাচাই এবং তাঁদের ভুল শুধরে দেওয়ার মাধ্যমে পেশাদার রান্নার নানা দিক দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। তার কাজের মধ্য দিয়ে রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে দলগত কাজ, প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলার গুরুত্বও আলোচনায় এসেছে।

সঞ্জীব কাপুর: ভারতীয় রান্নাকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া

ভারতীয় শেফ সঞ্জীব কাপুর টেলিভিশন অনুষ্ঠান, রান্নার বই ও বিভিন্ন খাদ্যবিষয়ক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় খাবারকে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছেন। তার কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পরিচিত ভারতীয় উপকরণ দিয়ে বিভিন্ন পদ তৈরির পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা।

ভারতীয় রান্নার বৈচিত্র্য—আঞ্চলিক মশলা, রান্নার ধরন ও উপকরণের ব্যবহার—নিয়ে তার উপস্থাপনা অনেক দর্শককে নতুন পদ সম্পর্কে জানতে এবং ঘরে রান্না করতে উৎসাহিত করেছে। পেশাদার রান্নার জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও প্রকাশনার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার কাজ তার একটি উদাহরণ।

মাসিমো বোতুরা: খাবারের অপচয় কমানোর উদ্যোগ

ইতালীয় শেফ মাসিমো বোতুরা রান্নায় নতুনত্ব আনার পাশাপাশি খাবারের অপচয় কমানোর উদ্যোগের জন্যও পরিচিত। তার প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ফুড ফর সোলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে এমন কমিউনিটি প্রকল্প পরিচালিত হয়, যেখানে ফেলে দেওয়ার উপযোগী নয়—এমন উদ্বৃত্ত খাবারের উপকরণ কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা হয়।

বোতুরার উদ্যোগ দেখিয়েছে, রান্নার দক্ষতা শুধু দামি উপকরণ বা বিলাসবহুল রেস্তোরাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকল্পিতভাবে উপকরণ ব্যবহার, খাবারের অপচয় কমানো এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও শেফরা ভূমিকা রাখতে পারেন।

শেফদের অবদান শুধু স্বাদে নয়

একেকজন শেফের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও তাদের অবদানের একটি জায়গায় মিল রয়েছে—খাবারকে ঘিরে মানুষের অভিজ্ঞতা বদলে দেওয়া। কেউ নতুন রান্নার কৌশল শিখিয়েছেন, কেউ পরিচিত খাবারকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন, আবার কেউ পুষ্টি ও পরিবেশের মতো বিষয়কে রান্নার আলোচনায় এনেছেন।

আন্তর্জাতিক শেফ দিবস তাই শুধু পেশাদার রাঁধুনিদের সম্মান জানানোর দিন নয়; খাবারের পেছনে থাকা শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়ারও উপলক্ষ। একই সঙ্গে খাবারের উৎস জানা, স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণ ব্যবহার এবং অপচয় কমানোর মতো অভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্বও মনে করিয়ে দেয় দিনটি।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৬:৩১   ৯ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


প্রথমবার অনজে ডি’অর জিতলেন এমবাপে
নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪
এসএসসি বৃত্তি-২০২৬ কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমীর ৮ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি অর্জন
সবাইকে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর
আজ আন্তর্জাতিক শেফ দিবস
ইতিহাসের এই দিনে
আল কোরআন ও আল হাদিস
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশের কোনো পার্থক্য নেই: দীনেশ ত্রিবেদী
দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম
আমি কোনো ব্যক্তি বা দলের লাভের জন্য কাজ করি না: ডেপুটি স্পিকার

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ