![]()
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার আরবি লিপজিগকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে হোসে মরিনিওর দল। রিয়ালের হয়ে গোল করেছেন বার্নান্ডো সিলভা, আরদা গুলার, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান ডিওমান্দে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে পোস্টের কাছ থেকে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন সিলভা। বিরতির পরপরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গুলার। এরপর দারুণ বাঁকানো শটে তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। জার্মান দলটির হয়ে একটি গোল শোধ করেন তিদিয়াম গোমিস। ম্যাচের শেষ দিকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে রিয়ালের বড় জয় নিশ্চিত করেন ডিওমান্দে।
আগামী সপ্তাহে ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রত্যাশায় থাকা ফরাসি সুপারস্টার এমবাপ্পে চলতি মৌসুমে রিয়ালের প্রতিটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচেই গোল করেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১২।
এমবাপ্পে বলেন, “আমি ভালো করছি। তবে আমার মনে হয়, আরও ভালো করতে পারি। আমি সেই অল্প কয়েকজন খেলোয়াড়ের একজন, যাদের সব সময় নিজেদের কাছে আরও বেশি প্রত্যাশা রাখতে হয়। এই মুহূর্তে সময়টা ভালো যাচ্ছে। তবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এবং আমাকে আরও ভালো করতে হবে।”
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চতুর্থ জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। বিশেষ কওে রোববার এল ক্লাসিকোর আগে রিয়ালের জন্য এই ধরনের একটি জয় প্রয়োজন ছিল।
গত দুই মৌসুমে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি রিয়াল। ঘরোয়া লিগেও চলতি মৌসুমে তাদের শুরুটা খুব একটা ভাল হয়নি। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে এখন পর্যন্ত শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে তারা। মঙ্গলবার পিএসজির কাছে হেরে যাওয়া বার্সেলোনার এমন রেকর্ড নেই।
এল ক্লাসিকোর আগে আত্মবিশ্বাস প্রসঙ্গে মরিনিও ে বলেন, “এল ক্লাসিকোর ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বলে কিছু নেই। এটি লিগের আরেকটি ম্যাচ, তবে অন্য ম্যাচগুলোর মতো নয়। বার্সেলোনার তুলনায় আমরা ২৪ ঘণ্টা কম বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছি।”
লা লিগায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বাম প্রান্তে রেখে একাদশ সাজান মরিনিও। তবে ভালো ফর্মে থাকা সত্ত্বেও সাবেক লিপজিগ উইঙ্গার ডিওমান্দেকে শুরুতে বেঞ্চে রাখেন তিনি।
ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করে সফরকারী লিপজিগ। রোমুলো কারদোসোর নীচু শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
গত সপ্তাহে রোমার বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কিছুটা উন্নতি করলেও নিজের ছন্দ পুরোপুরি ফিরে পাননি ভিনিসিয়াস। তার শট কোনমতে রক্ষা করেন লিপজিগের গোলরক্ষক মার্টেন ফানডেভুর্ট।
প্রথমাধের্রর শেষ দিকে এগিয়ে যায় রিয়াল। ফেডেরিকো ভালভার্দের কাটব্যাক থেকে গুলার শট নিলেও তা ঠেকিয়ে দেন ফানডেভুর্ট। তবে ফিরতি বলে দ্রুত এগিয়ে এসে গোল করেন সিলভা। এটি ছিল রিয়ালের হয়ে তার প্রথম গোল।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গুলার। জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে এমবাপ্পের হেডে বল পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে সামলে গোল করেন তিনি।
ম্যাচের ২০ মিনিট বাকি থাকতে ভিনিসিয়াসকে তুলে ডিওমান্দেকে মাঠে নামান মরিনিও। বেঞ্চে বসে হতাশ দেখাচ্ছিল ব্রাজিলিয়ান তারকাকে। তিনি জানতেন, আগামী ৪ নভেম্বর এথেন্সে এইকের বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচের আগে আর মাঠে নামতে পারবেন না।
রিয়ালের রেকর্ড ১৪ কোটি ইউরো মূল্যের চুক্তিতে দলে আসা ডিওমান্দে বক্সের প্রান্ত থেকে এমবাপ্পের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে দেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন।
এরপর দ্রুত একটি গোল শোধ করে লিপজিগ। রক্ষণে মনোযোগ হারান ডিন হুইসেন। সেই সুযোগে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে গোল করেন গোমিস।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে দুর্দান্ত এক ভলিতে রিয়ালের বড় জয় নিশ্চিত করেন ডিওমান্দে। ব্রাহিম দিয়াজের ক্রস থেকে পাওয়া বলে জোরালো শটে গোলটি করেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজের সর্বশেষ চার ম্যাচে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫২:৩৭ ৫ বার পঠিত