![]()
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছে গত মৌসুমের রানার্সআপ আর্সেনাল। ম্যাচের শেষ দিকে সমতাসূচক গোল করে দলকে এক পয়েন্ট উপহার দেন ডেক্লান রাইস।
ইনজুরিতে থাতা বুকায়ো সাকার পরিবর্তে মাঠে নেমে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন এবেরেচি এজে। হ্যারি কেনের দারুণ পাস থেকে আলফোনসো ডেভিস গোল করে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেন। কিন্তু ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সতীর্থ রাইস ম্যাচ শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে গোল করে আর্সেনালকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন।
লিগ পর্বে তিন ম্যাচে আর্সেনালের পয়েন্ট সাত। বায়ার্নের চেয়ে তারা দুই পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।
দলের ছন্দে থাকা উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে, জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ এবং মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালাকে ছাড়াই মাঠে নামে বায়ার্ন। অসুস্থতার কারণে কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির উপস্থিতি নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ডাগআউটে দায়িত্ব পালন করেন।
দলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় না থাকলেও ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্সেনালের শক্তিশালী রক্ষণভাগের বিপক্ষে বারবার আক্রমনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহে কেনের নিজ শহর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগে তার এই পারফরম্যান্স বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে করা কেনের গোলটি ছিল আর্সেনালের বিপক্ষে ২৩ ম্যাচে ১৬তম গোল। এ গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড থেকে মাত্র এক ম্যাচ পিছিয়ে রয়েছেন কেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা ১১টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড রয়েছে রোনালদোর।
ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গে কেন বলেন, “গত মৌসুমটি আমার জন্য অসাধারণ ছিল। এ নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। ব্যালন ডি’অর জিততে পারলে তা হবে অসাধারণ ব্যাপার। তবে এ বিষয়ে আমার আর কিছু করার নেই। অনেক আগেই ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন পুরস্কার বিতরণের রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে কী হয়।”
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে এটি ছিল আর্সেনালের দ্বিতীয় পয়েন্ট হারানোর ঘটনা।
ম্যাচের মাত্র আট মিনিটের মাথায় চোটের কারণে বিপাকে পড়ে আর্সেনাল। হঠাৎ মাটিতে পড়ে গিয়ে ডাগআউটের দিকে ইশারা করে পরিবর্তনের সংকেত দেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নের আগের দুই প্রতিপক্ষ ছিল নরওয়ের দল। তবে আর্সেনালের শারীরিক শক্তি ও আক্রমণাত্মক খেলার সামনে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন দলটি শুরুতে বেশ চাপে পড়ে যায়। মিকেল আর্তেতার দল তাদের নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে।
ম্যাচের ২৫ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ড বায়ার্নের রক্ষণভাগের সামনে দিয়ে একটি সহজ পাস বাড়িয়ে দেন। সেই পাস ধরে দ্রুত এগিয়ে যান এজে। এরপর বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে জালে পাঠান।
১০ মিনিট পর কানাডিয়ান উইঙ্গার ডেভিসের সমতাসূচক গোলে সহায়তা করে কেন নিজের গুরুত্ব আবারও প্রমাণ করেন।
সমতায় ফিরে বায়ার্ন ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। কয়েক মিনিট পর কাউন্টার এ্যাটাকে কেনকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন এজরি কনসা।
বিরতির পর বায়ার্নের গোলরক্ষক নয়্যার ও আর্সেনালের স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড রায়া একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করেন। ব্রুনো গিমারায়েসের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান নয়্যার। অন্যদিকে ডায়ো উপামেকানোর প্রচেষ্টা রুখে দেন রায়া।
দুই দলই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালায়। তবে বায়ার্নকে এগিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেইন। পেনাল্টি এলাকার প্রান্ত থেকে নেওয়া কেনের শট জুরিয়েন টিম্বারের হাতে লাগলে রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পটকিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি কেন।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন বায়ার্নের হাতেই ছিল। কিন্তু শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা ভিক্টর ইয়োকেরেস দারুন এক পাস বাড়ান রাইসের উদ্দেশ্যে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে সমতাসূচক গোল করেন রাইস। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৫:৫১ ২২ বার পঠিত