
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের রায়দেরপাড়া আমতলা এলাকায় সরকারি নকশাভুক্ত এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত একটি দীর্ঘদিনের কাঁচারাস্তা কেটে পুকুরে পরিণত করার অভিযোগ উঠেছে। যাতায়াতের একমাত্র পথটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি নকশা অনুযায়ী রাস্তাটি উদ্ধার ও পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ভূক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেকের মোড় হতে শামীম বাজারে যাওয়ার পথে আমতলা সংলগ্ন এলাকায় আবুল কালামের পুকুর অংশেই এ ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ারুল হক তালুকদার স্বনীল বলেন, “আবুল কালাম ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি নকশাভুক্ত এবং সর্বসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তাটি কেটে পুকুরে রূপান্তর করেছেন। বর্তমানে পুকুরের পাড় না থাকায় আমার আবাদি ফসলি জমি ভেঙে পুকুরে বিলীন হচ্ছে। একাধিকবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই প্রশাসনের কাছে দ্রুত রাস্তাটি উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক, আলাউদ্দীন, হেদায়েতুল্লাহ ও মোকাদ্দেস আলীসহ অনেকে জানান, সরকারি নকশাভুক্ত এই রাস্তাটি তাঁদের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি রেকর্ড ও সরেজমিন জরিপের মাধ্যমে রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে তা সোজা করে পুনর্নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। এতে সরকারি সম্পত্তি যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির বৈধ অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কালামের ছেলে মিনহাজ উদ্দিন জানান, “এখান দিয়ে একটি রাস্তা ছিল ঠিকই, তবে সেটি পুকুরের পূর্বের মালিকেরা কেটে ফেলেছেন, আমরা কাটিনি। আমরা দ্রুত পুকুরপাড় বেঁধে দেওয়ার এবং রাস্তাটি পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার চেষ্টা করব।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ জোসনা বলেন, “এলজিইডির পাকা রাস্তা থেকে পুকুরপাড়ের দক্ষিণ পাশ দিয়ে সোজা একটি কাঁচারাস্তা ছিল। তৎকালীন পুকুরমালিক এলাকাবাসীর বাধা না মেনে রাস্তাটি কেটে পুকুরে পরিণত করেন। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, রাস্তাটি উদ্ধার করে পুনরায় জনস্বার্থে উন্মুক্ত করা হোক।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি নকশাভুক্ত জমি ছেড়ে দিয়ে অতি দ্রুত পুকুরের পাড় নির্মাণ করা হবে। একই সাথে ঐতিহ্যবাহী ‘আমতলা মোড়’ হিসেবে এলাকাটির পরিচিতি বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ভূমি ও নকশার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধের অবসান ঘটে এবং জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০২:২৭ ৩৪০ বার পঠিত