শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

হেমন্তের শুরু থেকেই শীতের আমেজ

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » হেমন্তের শুরু থেকেই শীতের আমেজ
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬



হেমন্তের শুরু থেকেই শীতের আমেজ

রোদের মধ্যে যখন বাইরে ঘুরছেন, তখন শরীর ঘেমে-নেয়ে একাকার। আবার একটু ছায়ায় যেতেই আরামদায়ক অনুভূতি।

দিনে গরম আর শেষরাতে কাঁথামুড়ি দেওয়া ঠাণ্ডা।

কার্তিকে ময়মনসিংহের প্রকৃতিতে এমন স্ববিরোধী আচরণ শুরু হয় প্রায় প্রতিবছর। ব্যতিক্রম নয় এবারও।

জেলার গ্রামগুলোতে সকালে ধান ক্ষেতে জমে থাকছে হালকা শিশির।

আবার দুপুরের রোদে দেখা যায় শরতের স্মারক কাশফুলও এখনো রয়ে গেছে। প্রকৃতির এমন অচরণ বেশ উপভোগ করে ময়মনসিংহের মানুষ।

কবি ও সহকারী অধ্যাপক আহমদ জামাল জাফরী বলেন, বছরের এই সময়টা মানুষের কাছে খুব উপভোগ্য হয়। বছরের প্রায় সাত মাস বাংলাদেশের তাপমাত্রা প্রায় অসহনীয় পর্যায়ে থাকে।

এরপর গ্রামাঞ্চলে কার্তিকের শুরু থেকেই শীতের আগমনী বার্তা পেতে শুরু করে মানুষ। কার্তিকের কিছুদিন পরই আসে অগ্রহায়ণ। অগ্রহায়ণে নতুন ধান হয়। জেলার গ্রামে গ্রামে তখন আনন্দের বন্যা বয়। পিঠা পায়েস আর গান বাজনায় মেতে থাকে মানুষ।

জেলার কয়েকটি উপজেলার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলায় এখনো যথেষ্ট গরম অনুভূত হচ্ছে। তবে রাতে তাপমাত্রা কমে যায়। শেষ রাতে বেশ ঠাণ্ডা পড়ে। ভোরে হালকা কুয়াশারও দেখা মিলছে।ঈশ্বরগঞ্জের নওয়াড়া গ্রামের কৃষক কাজল মিয়ার ভাষ্য, ‘সকালে উষ (কুয়াশা) পড়া শুরু অইয়া গেছে। আর কিছুদিন বাদেই শুরু হবে ধান কাডা। অহন কার্তিকের মাঝামাঝিতেই ধান কাটা শুরু অয়। তবে পুরাপুারি শুরু অয় আগুন (অগ্রহায়ণ) মাসে। আমরা ধান কাডার জন্য প্রস্তুত অইতাছি।’

আবহাওয়ার অধিদপ্তরের তথ্য মতে সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকছে। এ কারণে দুপুরে বেশ গরম অনুভূত হয়। মধ্যরাতের পর থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি থেকে ২২ ডিগ্রিতে নামে। ওই সময় বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।

গ্রামের মতো নগরের মানুষও টের পেতে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা। নগরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ব্রহ্মপুত্র। নদের পাশ দিয়ে শহররক্ষা বাঁধ ঘেঁষেই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উদ্যান। হাল আমলের তরুণরা জয়নুল উদ্যানকে ময়মনসিংহের ‘ফুসফুস’ নাম দিয়েছে। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত অবসর সময়ে সব বয়সী মানুষ ছুটে যায় এ উদ্যানে।

উদ্যানে ব্রহ্মপুত্রের রক্ষাবাঁধের ঢালে বসা চয়ের দোকানগুলো জমে ওঠে। সেখানেও মানুষ টের পাচ্ছে হেমন্তের আগমন আসছে শীত। শরতে ব্রহ্মপুত্রের পারে ফোটে কাশফুল। হেমন্ত এলেও নদের পারে সে কাশফুল এখনো রয়ে গেছে।

কবি সরকার আজিজ বলেন, হেমন্ত এমন ঋতু, যা মূলত শীতের প্রতীক্ষা বাড়ায়। শরতে প্রকৃতি রূঢ় থাকে। হেমন্ত সে রূঢ়তা মুছে দেয়। মানুষের মনে ভালোলাগা জন্ম দেয়। এ সময়টায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায়। তিনি বলেন, হেমন্তে প্রকৃতিতে এক ধরনের ঘোর থাকে। এ নিয়ে কবিতা লিখেছেন জীবানানন্দ দাশসহ অনেক কবি।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৬:৫৭   ২৮ বার পঠিত