![]()
দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে, চীনা সরকারের সরাসরি অর্থায়নে কিংবা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, এসব খাতে উন্নয়ন ও বিনিয়োগের আরও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ এবং সড়ক ও সেতু নির্মাণে চীন সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের (সিআরসিসি) চেয়ারম্যান ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার কর্মকর্তা দাই হেগেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের বিস্তৃত স্থানীয় সরকার কাঠামোর চিত্র তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপকভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ৫ শতাধিক উপজেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৪ হাজার ৯০০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মীর শাহে আলম বলেন, গ্রামকে শহরে রূপান্তরে সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে চীনের আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) ও ওয়াসার মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রাম ও শহরের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং সেতু-কালভার্ট নির্মাণে পিপিপি পদ্ধতিতে কিংবা সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে সিআরসিসি এগিয়ে এলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
চীনা প্রতিনিধিদলের পক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন জানান, বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এবং ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক সিআরসিসি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক ঠিকাদারি খাতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সিআরসিসির ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ২৪টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু এবং নদীর তীর পুনর্দখল ও অবকাঠামো নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
দাই হেগেন আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ এবং গ্রামীণ এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করতে সিআরসিসি অত্যন্ত আগ্রহী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরের সুষম উন্নয়নে সিআরসিসি দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চায়।
আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহা. আবদুস সালাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামান এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৮:৪৮ ১৯ বার পঠিত