বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

পিএসসি সংস্কারসহ ১৩ দফা দাবি ছাত্রশিবিরের

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » পিএসসি সংস্কারসহ ১৩ দফা দাবি ছাত্রশিবিরের
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬



পিএসসি সংস্কারসহ ১৩ দফা দাবি ছাত্রশিবিরের

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য জুলাই সনদে উল্লেখিত প্রস্তাবনার আলোকে পিএসসির সংস্কার, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারি বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করে মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের কাছে ১৩ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজির হোছাইন জুয়েল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক সুমন সরকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।

ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের কাছে নিম্নোক্ত দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

১. জুলাই সনদের প্রস্তাবনা অনুসারে পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের জন্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে।

২. নবম ও দশম গ্রেডসহ সব সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়া পিএসসির অধীনে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আর্থিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

৩. লিখিত পরীক্ষার কোডভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি, ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা এবং প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে হবে। পাশাপাশি ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতিসহ মোনেম কমিশনের গৃহীত সংস্কার উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখতে হবে।

৪. সব মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত শূন্য পদের তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করে সমন্বিত বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।

৫. নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পদায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। কোনো কারণে বিলম্ব হলে তার কারণ অনলাইনে প্রকাশ করতে হবে।

৬. চাকরিপ্রার্থী কিংবা তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ের কারণে যাতে কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে না হয়, সে জন্য নিরপেক্ষ ও কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করতে হবে।

৭. পুলিশ ভেরিফিকেশনের উদ্দেশ্য, মূল্যায়নের মানদণ্ড এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কার্যপদ্ধতি লিখিতভাবে প্রকাশ করতে হবে।

৮. জাতীয় পরিচয়পত্র ও সরকারি অপরাধের রেকর্ডের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ করতে হবে।

৯. ভেরিফিকেশনে কোনো নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি তথ্য পুনর্বিবেচনা ও আপিলের আইনগত সুযোগ রাখতে হবে।

১০. মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে অসংগতি এড়াতে অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে।

১১. মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে লিখিত পরীক্ষার মেধাক্রমের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

১২. প্রশ্নফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষা ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় জালিয়াতি প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে পিএসসির নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

১৩. সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ৮, ১৯ ও ২০ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধান সংশোধন করতে হবে। চাকরিতে আনুগত্যের পরিবর্তে মেধা, সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে।

ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে যোগ্য প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৭:২৫   ১৮ বার পঠিত