![]()
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি ধারাবাহিক বৈশ্বিক মনোযোগ বজায় রাখাকে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত একটি জাতীয় নীতি সংলাপের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে প্রাসঙ্গিক রাখতে হবে, আর এটিকে প্রাসঙ্গিক রাখাটাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
‘রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের একটি টেকসই দৃষ্টিভঙ্গি : জাতীয় কৌশল ও বাহ্যিক অবদানের রূপরেখা’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে নীতি গবেষণা কেন্দ্র।
শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাই সংকট সমাধানের জন্য অর্থপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারের ভেতরে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের সঙ্গে ফলপ্রসূভাবে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশকে চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে সব সময় সোচ্চার ছিলাম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুনর্বাসন অবশ্যই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে হতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম মর্যাদার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে আমাদের।’
এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবেলায় একটি জাতীয় রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন তিনি।
সংলাপে জানানো হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তাদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার কারণে স্থানীয় মানুষ এবং দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই সংলাপের উদ্দেশ্য ছিল নীতি নির্ধারক, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, গবেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংকট সমাধানের একটি টেকসই ও ব্যাপক পদ্ধতির বিষয়ে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা।
আলোচনায় একটি জাতীয় কৌশলগত রূপরেখা প্রণয়ন, রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা, কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক ও বাহ্যিক অংশীদারদের অবদান অন্বেষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া সংকটের একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানের জন্য ধারাবাহিক নীতিগত সম্পৃক্ততা এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হয় সংলাপে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪০:২৭ ৭ বার পঠিত