রাজধানীর যানজট নিরসনে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ট্রাফিক সিগনাল অটোমেশন সিস্টেমের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। শুরুতেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সাতটি ইন্টারসেকশনে চালু হবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অটোমেশন সিস্টেমে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা।
২০০১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অটোমেটিক ট্রাফিক সিস্টেম স্থাপনে তিনবার আলাদা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিলো। যার মধ্যে ছিল সোলার প্যানেল, রিমোট কন্ট্রোল ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মত সর্বাধুনিক পদ্ধতি। দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ, অসম্পূর্ণ ট্রায়াল ও নানা অনিয়মে আলোর মুখ দেখেনি একটি প্রকল্পও।
জানা গেছে, ২০০১-০২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের আওতায় ৭০টি ইন্টারসেকশনে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বছর না পেরোতেই পুরো সিস্টেম বিকল হয়ে পড়ে। এরপর ২০১২-১৩ অর্থবছরে ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ২৯টি ইন্টারসেকশনে বসানো হয় সিগন্যাল বাতি, সেবার বিশ্বব্যাংক বরাদ্দ দিয়েছিল ১১২ কোটি টাকা। সবশেষ ২০১৬ সালে ঢাকার চারটি ইন্টারসেকশনে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিস্টেম বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিল ডিটিসিএ।
এবার নগরবাসীকে তীব্র যানজট থেকে মুক্তি দেয়ার পাশাপাশি যানজটে হারানো কর্মঘণ্টা বাঁচাতে অটোমেটিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিলো অন্তবর্তী সরকার। শুরুতেই হাইকোর্ট থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সাতটি ও পর্যায়ক্রমে ২২টি ইন্টার-সেকশনে এই সিস্টেম চালু করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশীজন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ডিটিসিএ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার জানান, পরীক্ষামূলক পাইলটিংয়ের লক্ষ্য সচেতনতা বৃদ্ধি। আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগে সচেতনতা, সক্ষমতা যাচাই ও ত্রুটি শনাক্তের জন্য দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় নেবে পরীক্ষামূলক এই প্রকল্প।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মঈনউদ্দিন জানান, শহরজুড়ে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করেছে দুই সিটি করপোরেশন।
ডিএমপি ট্রাফিক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, এ ব্যবস্থায় সিগন্যাল অমান্য করলেই গুনতে হবে জরিমানা।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৫:৫৭ ১৪ বার পঠিত