![]()
একসঙ্গে চার মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়ে সন্দ্বীপ গেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সেখানে চলমান উন্নয়ন কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যমান রাস্তার কাজের মান ভালো না হলে, ভবিষ্যতে ওই ঠিকাদারকে আর কোনো রাস্তার কাজের অনুমোদন দেওয়া হবে না।’ রোববার সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও প্রশাসনের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা এ কথা বলেন। এর আগে তিনি সন্দ্বীপের রহমতপুর ব্লক বেড়িবাঁধ ও গুপ্তছড়া সড়ক চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।
ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘সন্দ্বীপ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরের বাইরে ছিল। অর্থ, স্থানীয় সরকার, নৌ পরিবহন ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সরেজমিনে সন্দ্বীপ ঘুরে দেখেছেন। এখন থেকে সবার নজর যেন সন্দ্বীপের দিকে থাকে সে চেষ্টা করেছি।’
বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিতদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্দ্বীপে ৫ হাজার পুলের চাহিদা রয়েছে। ২০০ পুল এসেছে আপাতত। দেড় হাজার পুলের জন্য টেন্ডার পাঠানো হয়েছে। কোনো অনিয়ম না করে নিয়মমাফিক পুল বিতরণ করা হলে বাকি পুলগুলোও দেওয়া হবে।
সড়ক উপদেষ্টা বলেন, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌরুটে সীট্রাক চালু হবে। যাত্রীদের দুর্ভোগ এড়াতে ও ফেরী চলাচল নির্বিঘ্ন করতে দুই পাড়ে লো, মিড ও হাই তিনটি ঘাট হওয়া প্রয়োজন।
সন্দ্বীপ ও নোয়াখালীর সীমানা জটিলতা নিরসন বিষয়ক এক প্রশ্নে তিনি বলেন, সীমানা বিরোধ নিরসনে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। ন্যায্যতা অনুযায়ী সমাধান করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঞ্চালনায় সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব আমিন উল্লাহ নূরী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসিসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় সন্দ্বীপের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপদেষ্টার কাছে সন্দ্বীপের সীমানা জটিলতা নিরসন, উড়িরচরের নদী ভাঙন রোধ, নৌ যাতায়াত ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, বেড়িবাঁধ, আইনশৃঙ্খলা, কৃষিসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২০:৪৮ ৮ বার পঠিত