শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

চায়না জালে বন্দি সরিষাবাড়ীর মৎস্য সম্পদ, নেই কোন প্রতিকার !

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » চায়না জালে বন্দি সরিষাবাড়ীর মৎস্য সম্পদ, নেই কোন প্রতিকার !
শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬



চায়না জালে বন্দি সরিষাবাড়ীর মৎস্য সম্পদ, নেই কোন প্রতিকার !

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরে সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন জেটি ঘাট এলাকায় অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারে দেশি মাছের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্যজীবী প্রতিদিন এই সর্বনাশা জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে, যা স্থানীয় মৎস্য সম্পদের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে জেটি ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ দৃশ্য। ঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুকানো হচ্ছে শতাধিক চায়না জাল। ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরার জন্য বিশেষ কায়দায় তৈরি এই জালগুলো দিনের পর দিন প্রকাশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এবং ভোরে যমুনার শাখা নদী ও আশপাশের জলাশয়ে এই জাল বিছিয়ে রাখা হয়।

চায়না জালের জালিকা এতই সূক্ষ্ম যে, এতে মাছের রেণু পোনা থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মা মাছ এমনকি জলজ পোকামাকড়ও আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এর ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস হচ্ছে। নদী-নালা ও খাল-বিলের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে দেশি মাছের আকাল পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

দেশের প্রচলিত মৎস্য আইনে এই ধরনের সূক্ষ্ম জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ জগন্নাথগঞ্জ ঘাটের মতো জনবহুল স্থানে প্রকাশ্যে এই কর্মকাণ্ড চললেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সচেতন মহল মনে করছেন, কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা অসাধু মাছ শিকারিদের আরও উৎসাহিত করছে।

পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “আজ যদি এই চায়না জাল বন্ধ করা না যায়, তবে কাল আমাদের জলাশয়ে কোনো মাছ অবশিষ্ট থাকবে না।” তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন যেন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে এই অবৈধ জালগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং এর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৫:১১   ৭ বার পঠিত