
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় জুয়া ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে পুলিশের একটি দল এ বিশেষ অভিযানে নামে।
পুলিশ জানায়, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এবং করতোয়া নদীর চরাঞ্চল হওয়ায় ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম। এই সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জুয়া ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এর ফলে আশপাশের এলাকায় চুরি, দস্যুতা ও ডাকাতির মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার ১ নম্বর বুলাকীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কুলানন্দপুর এলাকার করতোয়া নদীর খেয়াঘাট পার হয়ে গোপাল চৌধুরীর বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পরিত্যক্ত জমিতে জুয়ার আসর বসার খবর পাওয়া যায়। সেখানে টাকার বিনিময়ে ফরগুটি ও ডাবু দিয়ে জুয়া খেলা এবং মাদক কেনাবেচা চলছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে থাকা আসামিসহ আনুমানিক ১০০ থেকে ১১০ জন জুয়াড়ি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর এলাকার মৃত সাহেব উদ্দিন মুন্সির ছেলে ময়নুল ইসলাম (৫২), রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ধর্মদাসপুর (উচাপাড়া) এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে আলতাফ হোসেন (৪৫), একই উপজেলার ষোলঘরিয়া এলাকার মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রঞ্জু মিয়া (৩৮), বাঁশপুকুরিয়া এলাকার মৃত ধন মাহামুদের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫০) এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আলদাদপুর এলাকার মৃত আজগর আলী মন্ডলের ছেলে সাদেকুল ইসলাম (৫০)।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি ফরগুটি, ২টি কালো রঙের রাবারের ডাবু, নগদ ৪ হাজার ৮০০ টাকা, ৪টি বাটন মোবাইল ফোন, ১টি স্মার্টফোন এবং ৫ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘোড়াঘাটে কোনো ধরনের জুয়া ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না।’
ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.ন.ম. নিয়ামত উল্লাহ বলেন, ‘জুয়া ও মাদক সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হবে।’
এদিকে এ ঘটনায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করলেও তাদের দাবি, শুধু আটক নয়, জুয়ার মূল হোতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনের নজর এড়ালেই আবারও এই নদীপাড়ে জুয়ার আসর বসার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৬:৫৩ ৫ বার পঠিত