![]()
ওল্ড ট্রাফোর্ডের ডাগআউটে মাইকেল ক্যারিকের প্রত্যাবর্তনটা হলো স্বপ্নের মতো। কোচের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম ম্যাচেই পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিকে কেউই প্রতিপক্ষ হিসেবে পেতে চাইবেন না। কিন্তু রেড ডেভিলদের অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব নিয়ে এই কঠিন পরীক্ষার মুখেই পড়েছিলেন ক্যারিক। ইউনাইটেডের সোনালী প্রজন্মের অন্যতম এই সেনানী সেই চ্যালেঞ্জ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন, ঘরের মাঠের ডার্বিতে অবিস্মরণীয় জয় এনে দিলেন দলকে।
রেড ডেভিলরা জৌলুস হারালেও ম্যানচেস্টার এখনও পুরোপুরি নীল হয়ে ওঠেনি। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের শিষ্য হয়ে মাইকেল ক্যারিক অন্তত এটা হতে দিতে পারেন না। ঘরের মাঠে এবারের মতো জানান দিলেন–ম্যানচেস্টার ইজ রেড।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ব্রুনো এমবেউমো এবং প্যাট্রিক দরগুর গোলে ২-০ ব্যবধানে সিটিকে হারিয়েছে ক্যারিকের শিষ্যরা। এদিন ম্যাচের দুটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে।
গার্দিওলার দলের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তা হয়ে এসেছে আর্লিং হলান্ডের চোট শঙ্কা। প্রথমার্ধেই অস্বস্তি নিয়ে খেলা হলান্ডকে দ্বিতীয়ার্ধের ৮০ মিনিটে মাঠ থেকে তুলে নেন সিটির কোচ।
এই জয়ের পর ২২ ম্যাচে ৯ জয় ও ৮ ড্রয়ে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুলকে পেছনে ফেলে চার নম্বরে উঠেছে ইউনাইটেড। তবে লিভারপুল একটি ম্যাচ কম খেলেছে। রাতে অবনমন অঞ্চলে থাকা বার্নলিকে হারালেই হারানো জায়গা ফিরে পাবে আর্নে স্লটের দল।
এই হারে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে আরও পিছিয়ে পড়ল সিটি। ২২ ম্যাচে ১৩ জয় ও ৪ ড্রয়ে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সিটি। এক ম্যাচ কম খেলা আর্সেনালের সংগ্রহ ৪৯ পয়েন্ট।
ঘরের মাঠে বলের দখলে ইউনাইটেড বেশ পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে এগিয়ে ছিল। ১০টি শট নিয়ে ৭টিই লক্ষ্যে রেখেছে ক্যারিকের শিষ্যরা। অন্যদিকে সিটির ৭ শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না। জয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো। স্বাগতিকদের দুটি প্রচেষ্টা পোস্টে আর ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়েছে। আরও তিনবার বল জালে জড়ালেও প্রতিটিই অফসাইডের জন্য বাতিল হয়েছে।
এই ম্যাচের আগে ইউনাইটেডের সময়টা খুব বাজে কাটছিল। লিডসের বিপক্ষে ড্রয়ের পর বরখাস্ত হন কোচ রুবেন আমোরিম। তার বদলে দুই ম্যাচে ডাগআউট সামলান ইউনাইটেডের আরেক সাবেক ড্যারেন ফ্লেচার। তার মধ্যে একটি ছিল এফএ কাপে ব্রাইটনের বিপক্ষে, যেখানে হেরে বিদায় নিয়েছে রেড ডেভিলরা।
লিগে টানা তিন ড্র আর সব মিলিয়ে টানা চার ম্যাচে পয়েন্ট হারাবার পর ক্যারিকের হাত ধরে জয়ের ধারায় ফিরল ইউনাইটেড। অন্যদিকে সিটি তার তিন ড্রয়ের পর এবার হারের মুখ দেখল।
এদিন ইউনাইটেড প্রতিআক্রমণে সিটিকে নাস্তানাবুদ করেছে। প্রথমার্ধেই একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে রেড ডেভিলরা। কপাল ভালো হলে প্রথমার্ধেই লিড পেতে পারত। ব্রুনো ফের্নান্দেসের শট ক্রসবারে লাগে। আমাদ দিয়ালো ও ফের্নান্দেস দুবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়ে যায়।
লিডের জন্য ইউনাইটেডকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধের ৬৫ মিনিট পর্যন্ত। পাল্টা আক্রমণে নিজেদের সীমানা থেকে দ্রুত বল নিয়ে ওপরে উঠে থ্রু বল বাড়ান ফের্নান্দেস, প্রথম ছোঁয়াতেই কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান এমবেউমো।
আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সে পাঁচ ম্যাচেও কোনো গোল করতে না পারা ক্যামেরুনিয়ান ফরোয়ার্ড ক্লাবে ফিরেই গোল পেলেন। এবারের প্রিমিয়ার লিগে ১৭ ম্যাচে ৭ গোল করলেন তিনি।
৭৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান দরগু। ডানদিক থেকে ছয় গজের বক্সের বাইরে ক্রস বাড়ান ম্যাতিয়াস কুনিয়া। ছুঁতে গিয়ে ফান পায়ের ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান এই বেলজিয়ান ডিফেন্ডার।
যোগ করা সময়ে সিটির জালে বল পাঠিয়েছিলেন বদলি নামা ম্যাসন মাউন্ট। তবে ভিএআর দেখে অফসাইদ ঘোষণা করে গোল বাতিল করেন রেফারি।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৩:২৫ ১১ বার পঠিত