বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা চাই, দলীয় আমলাতন্ত্র নয় : উপদেষ্টা রিজওয়ানা

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা চাই, দলীয় আমলাতন্ত্র নয় : উপদেষ্টা রিজওয়ানা
বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬



প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা চাই, দলীয় আমলাতন্ত্র নয় : উপদেষ্টা রিজওয়ানা

ক্ষমতাসীন নেতাকে তুষ্ট করে পদোন্নতির যে সংস্কৃতি দেশে আমলাতন্ত্রকে গ্রাস করেছে তা ভাঙতেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা কোনো দলের নয়; তিনি হবেন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা, জনগণের সেবক।’

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুনছি, এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের, ওই কর্মকর্তা বিএনপির, আরেকজন জামায়াতের।
এসব কথা শোনা যাবে না। কর্মকর্তার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের সময় সেটার প্রতিফলন হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের আমলাতন্ত্র দীর্ঘদিন জনসেবায় অভ্যস্ত না হয়ে নেতা তুষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কারণ, ক্ষমতাসীন নেতাকে খুশি করতে পারলেই পদোন্নতি নিশ্চিত-এই বিশ্বাসই প্রশাসনকে দুর্বল করেছে।
এই সিস্টেম ভাঙতেই হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।’

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘মেধাবী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কর্মকর্তা হলেও পরবর্তী সময় তাদের দলীয় রঙে রাঙিয়ে ফেলা হয়।’

তিনি বলেন, ‘কর্ম কমিশনের সিদ্ধান্তে বিরোধী দল যুক্ত থাকলে নেতার তুষ্টির সুযোগ থাকবে না, নিয়োগ হবে স্বচ্ছ। ব্যক্তিপূজা নয়, জবাবদিহিমূলক সংসদ।

সংসদীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, ‘সংসদে জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়নের পরিবর্তে ব্যক্তি স্তুতি ও দলীয় আনুগত্যই মুখ্য হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘গান শুনে খুশি হওয়া স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার-এভাবে সংসদ চলতে পারে না। আমরা সংসদ সদস্য নির্বাচন করি জাতীয় স্বার্থে আইন করার জন্য, ব্যক্তি বন্দনার জন্য নয়।’

তিনি জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট হলে স্পিকার সরকার দল থেকে এবং ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন, যা সংসদে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীত্বে ১০ বছরের সীমা নির্ধারণ হলে রাজনৈতিক দলগুলো নতুন নেতৃত্ব গড়তে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘একই মুখ বারবার ক্ষমতায় থাকার কারণে নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হয় না। এই সীমা রাজনীতিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়াবে।’

বিচার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদাহরণ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘খুনের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ক্ষমা পেয়ে যায়-এটা রাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর। “আমরা দুষ্টের দমন করব, সৃষ্টের পালন করব—এই নীতিতেই রাষ্ট্র চলবে।”

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে গণভোটের প্রচার রিকশা ও কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নেন উপদেষ্টা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য হ্যাঁ ভোট দিন। তাহলে কোনো একক দল সব সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তিনি আরো বলেন, “ ‘হ্যাঁ’ ভোট হলে ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হবে না, রাতের ভোট বা ভোট চুরির সুযোগ থাকবে না। এ ভোট শুধু আজকের নয়-ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কিভাবে চলবে, সেটি নির্ধারণ করবে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় গৃহীত জুলাই সনদের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সনদ তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার ভারসাম্য ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১২টি বিষয়ে চারটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলতে পারে। আমরা কাউকে না ভোট দিতে নিষেধ করছি না-এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

মতবিনিময়সভায় সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা। উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক লামিয়া আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, ফরিদপুর পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ ভোটাররা।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৪:১৪   ৯ বার পঠিত