![]()
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী এই যুগে সবচেয়ে বড় দল। কিন্তু আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। আমরা কোনো পরিবার ও গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করতে চাই না। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও চাই না; আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা পাড় থেকে এই বিজয় শুরু হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এতে দেশের মেয়েরাই আমাদের শক্তি জুগিয়েছিল। আমরা মাদের কথা দিচ্ছি, আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা-বোনদের সম্মান করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
সাম্প্রতিক সাইবার হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘চার দিন আগে আমার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে যা তা পোস্ট চালানো হয়েছে। আর একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। লজ্জা, ওদের চুনোপুঁটিসহ বড় বড় নেতারাও গান গাওয়া শুরু করল। আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে শক্তভাবে ধরে ফেলেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সত্য ঢাকা থাকে না।’
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের আবু সাঈদ বলেছিল, ভেতরে তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। গুলি পিঠে নেয়নি, তিন-তিনটি গুলি বুকে নিয়েছিল। এটাই বীরত্বের পরিচয়। এখান থেকে জুলাই আন্দোলন জ্বলে উঠেছিল। আপনারা বড়ই সৌভাগ্যবান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদাতবরণ করেছিলেন। তার রাস্তা ধরে আবু সাঈদের মৃত্যু। সেই রাস্তা ধরে তাদের সহযোদ্ধা শরিফ, ওসমান, হাদি হয়েছেন। একে একে তারা ১৪ শ’ জন শহীদ হয়েছেন। এই ১৪ শ’ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। এই ১৪ শ’ জন বীরের রক্ত আমাদের নদীগুলো লাল করে দিয়েছে। আমরা এই বীরদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের নদীগুলোকে কঙ্কাল বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নদী ভাঙনরোধের জন্য যতগুলো বাজেট হয়েছে, সব তাদের পেটে গিয়েছে। সব চোর। এই চোরেরা টাকা চুরি করে বিদেশে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। আমরা যদি সুযোগ পাই, তাহলে ওদের বুকের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে। ক্ষমতায় গেলে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা কুড়িগ্রাম থেকে উন্নয়ন শুরু হবে।’
এর আগে জনসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আকতার হোসেন, জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান সরকার, সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুর মিয়া, কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ আসনে এনসিপি প্রার্থী ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী, ডাকসু নেতা আসিফ আব্দুল্লাহসহ অন্য নেতারা।
বুধবার সকাল ৯টায় শুরু হওয়া জনসভা চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। জনসভাস্থল সরকারি কলেজ মাঠ জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৫:২০ ৯ বার পঠিত