বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান

রাজনৈতিক দলকে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা। তাই নতুন সরকারকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি বিশেষায়িত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবি অডিটরিয়ামে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিস-অ্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ (ডিআরডাব্লিউ) ও টিআইবি আয়োজিত সংসদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডিআরডাব্লিউর সদস্যসচিব খন্দকার জহুরুল আলম। তিনি বলেন, ‘ভোটের দিনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিজস্ব যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের গাইডসহ ভোট দেওয়ার অনুমতি এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিচতলায় বিশেষ বুথ স্থাপনের মতো সিদ্ধান্ত থাকলেও এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচার না থাকায় অনেক প্রতিবন্ধী ভোটারই তা জানেন না। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র’ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ধারণা কেবল প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভোটারদের জন্যও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক ভোটাররা যেন তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী উপযোগী পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে প্রতিবন্ধীদের জন্য বাড়ি গিয়ে ভোট সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে অন্তত তাদের জন্য নিরাপদ ও বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।’ নির্বাচনী ইশতেহার যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়ে একসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মহুয়া পাল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের গৃহীত সুবিধাগুলো সম্পর্কে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, স্থানীয় প্রশাসন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো জরুরি।
এতে প্রতিবন্ধী ভোটারদের আস্থা বাড়বে এবং ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।’

ডিস-অ্যাবিলিটি ইনক্লুশন এক্সপার্ট ডা. নাফিসুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য নিচতলায় বুথ, হুইলচেয়ারসহ প্রবেশ এবং দোভাষীর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না।’ প্রচার ও তথ্যের অভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিআরডাব্লিউর সভাপতি মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়ে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এখনো অগ্রগতি নেই।
’ বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধীদের জন্য সংসদে আসন সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।

প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা এখনো নিশ্চিত নই যে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারব কি না। প্রক্রিয়াগত ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।’ ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালুর দাবি জানান তিনি।

বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী যুব কর্মী মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থাপনা ছাড়া প্রতিবন্ধী মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সহকারী ও দোভাষীর উপস্থিতি থাকলে প্রতিবন্ধীদের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ অনেক সহজ হয়। কিন্তু এসব তথ্য না জানার কারণে অনেকেই ভোট দিতে আগ্রহ হারান।’

সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও বলেন, নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু নির্বাচনকালেই নয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সংসদে প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩৮:৪৭   ১৫ বার পঠিত