
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক সংঘাতের হুমকির মুখে আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন করছেন ইরানিরা। এই উপলক্ষে দেশজুড়ে ছোট-বড় ১৪০০ শহরে বিজয় র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৭৯ সালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত একনায়ক পাহলভি শাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাসন থেকে ইমাম খোমেনির প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে বিপ্লব চূড়ান্ত রূপ নেয় এবং ১১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থন প্রত্যাহারের মাধ্যমে পাহলভি শাসনের অবসান ঘটে। সেই থেকে প্রতি ১১ ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হয় ইসলামি বিপ্লব বার্ষিকী।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন মতে, ইসলামি বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয়েছে রাজধানী তেহরানের আজাদি স্কয়ারে। জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রকাশে এই সমাবেশে অংশ নিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
আজ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দলে দলে আজাদি স্কয়ারে জড়ো হতে শুরু করেন তেহরানের বাসিন্দারা। এই সময় তারা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের অপতৎপরতার পাশাপাশি ইসরাইলি সরকারের নৃশংসতার নিন্দা জানিয়ে সম্মিলিতভাবে স্লোগান দেন।
সেই সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবের অগ্রসৈনিক প্রয়াত ইমাম খোমেনির আদর্শ ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি সমর্থন ও আনুগত্যের শপথ নেন।
তেহরানের সমাবেশ ভাষণ দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এতে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতির বিরুদ্ধে চলমান সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছি…’।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানি জনগণের শক্তি ও ঐক্য শত্রুদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের জন্ম দেয়। আমাদের এভাবেই একে অপরের পাশাপাশি থাকা উচিত।’
পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ইরান ‘পারমাণবিক অস্ত্র চাই না’ এবং ‘এ বিষয়ে যেকোনো ধরণের যাচাইয়ে প্রস্তুত’। তিনি বলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তৈরি ‘অবিশ্বাসের উঁচু প্রাচীর’ ‘এই আলোচনাগুলোকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে দেয় না’।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি তার সরকার। তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের অতিরিক্ত দাবি মেনে নেবে না তেহরান।
এদিকে ইসলামি বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে ২ হাজারেরও বেশি বন্দিকে ক্ষমা করেছেন বা তাদের সাজা কমিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তবে সাম্প্রতিক প্রতিবাদে জড়িত কেউ এই তালিকায় নেই।
ইরানে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিনে সাধারণত সর্বোচ্চ নেতা এই ধরনের ক্ষমা ও সাজা হ্রাসের অনুমোদন দেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম মিজান জানায়, ইসলামি বিপ্লবের নেতা বিচার বিভাগের প্রধানের অনুরোধে ২,১০৮ জন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা, সাজা হ্রাস বা পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৬:৪৫ ৫৬ বার পঠিত