শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোট গণনা ও প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগ সিরাজুল মামুনের

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » ভোট গণনা ও প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগ সিরাজুল মামুনের
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



ভোট গণনা ও প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগ সিরাজুল মামুনের

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের পরাজিত প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন ভোট গণনায় অনিয়ম ও ভোট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পুনরায় ফলাফল গণনার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন তিনি।

একই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর-বন্দর আসনে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এ প্রার্থী।

তিনি বলেন, “নির্বাচনে জিতলে ফলাফল মেনে নেওয়া, আর পরাজিত হলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার সংস্কৃতিতে আমি বিশ্বাস করি না। কিন্তু এ আসনে ভোটারদের ব্যথা ও যন্ত্রণা রয়েছে। তারা ফলাফলটি মেনে নিতে পারছেন না। তাদের যন্ত্রণা হচ্ছে- ভোট দিলাম কাকে, আর নির্বাচিত হয়েছেন কে? ভোটারদের সান্তনা দিতে আমি এসেছি।”

আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী ছিলেন না বলেও জানান তিনি। পরে দলের সিদ্ধান্তে তিনি জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে প্রার্থী হন এবং দশ দলীয় জোটের সমর্থনও পান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পরদিন বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে বিজয়ী ঘোষণা করেন তিনি।

ফলাফল অনুযায়ী, আসনটিতে আবুল কালাম পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট। আর ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোটে দ্বিতীয় হন সিরাজুল মামুন। এ আসনে ভোট দেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ ভোটার।

ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের সময় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিরাজুল মামুন বলেন, “রাত সাড়ে দশটার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। এগারোটার দিকে রিটার্নিং অফিসার বারো কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করলেন। মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল- উনি ধারবাহিকভাবে বাকি কেন্দ্রগুলোরও ফলাফল ঘোষণা করবেন। কেননা, এইটা তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু উনি বারোটা কেন্দ্রের ফলাফল দেওয়ার পরে উনি আর আসলেন না। দুইটা পর্যন্ত আমাদের লোকেরা অপেক্ষা করলো, কিন্তু উনি আর আসলেন না। এইটা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক লেগেছে।”

কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে একষট্টি আসনে এগিয়ে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “কী কারণে বারোটা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর তিনি আর আসলেন না, এইটা আমার বোধগম্য নাই।”

এছাড়া, দেওয়াল ঘড়ির এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা, ফলাফল গণনার সময় এজেন্টদের কক্ষের বাইরে রাখা, সিসিটিভি ফুটেজের বাইরে ভোটগণনা করা, বাতিল ভোটকে ধানের শীষের হিসেবে গণনা করা ও রেজাল্ট না লিখেই পোলিং এজেন্টদের থেকে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর সংগ্রহ করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

“এই ফলাফলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মানুষের রায়ের প্রতিফলন ঘটে নাই। এ জন্য আমি পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানাচ্ছি।”

ভোটের আগে রাতে ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা বিলির উদ্দেশ্যে টাকা বহনের অভিযোগে এ প্রার্থীর প্রধান নির্বাহী এজেন্ট হাফেজ মো. কবির হোসেনকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর ৪(১) ও ২৭ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এবং তাকে কেবল নিজের ভোট দেওয়া ছাড়া নির্বাচনী অন্য কোনো দায়িত্ব পালনেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির।
কবির হোসেন খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতিও।

তবে, এ জরিমানা ‘ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন সিরাজুল মামুন। সংবাদ সম্মেলনে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান এজেন্ট তো বিভিন্ন কেন্দ্রে যাবেন এবং পোলিং কাজে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের কাজে সহযোগিতা করবেন এইটাই স্বাভাবিক ছিল। এজেন্টদের খরচ দেওয়া আর (ভোটারদের) টাকা দেওয়া না। সেখানে যে বিচারটা করা হয়েছে তা অন্যায় ছিল, ইনজাস্টিস ছিল।”

ঘটনার রাতেই এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ‘সদুত্তর’ পাননি বলেও জানান পরাজিত এ প্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল মামুনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শওকত আলী, খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ প্রমুখ।

এদিকে, ফল পুনরায় গণনার আবেদন পেয়েছেন জানিয়ে রিটার্নি কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, “উনি একটা লিখিত দিয়েছেন, যা নির্বাচন কমিশনে ফরওয়ার্ড করেছি। এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেবে কমিশন।”

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৮:৫৮   ১০ বার পঠিত