
রংপুরে শিক্ষা কর্মকর্তাকে আট লাখ টাকা ঘুষ দিতে এসে মাইদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক আটক হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম তাকে ঘুষের টাকাসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আটক মাইদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার কচাইকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় কচাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কচাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগমের সঙ্গে দেখা করেন মাইদুল ইসলাম। ওই দিনই শিক্ষা কর্মকর্তা তার প্রস্তাব নাকচ করে দেন এবং জানান, নিয়ম অনুযায়ী এটি সম্ভব নয়।
সোমবার দুপুরে পুনরায় শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগমের কার্যালয়ে আসেন মাইদুল। তিনি মোবাইল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে কর্মকর্তাকে জানান, ওই চারজনের এমপিওভুক্তির জন্য তিনি মোট ৮ লাখ টাকা নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা শিক্ষকের জন্য এবং ৩ লাখ টাকা কর্মচারীদের জন্য। বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম কৌশলে অফিসের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাকেন এবং পরে তাকে ঘুষের টাকাসহ আটক করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাওন মিয়া জানান, মাইদুল ইসলাম শিক্ষা উপ-পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করার সময় তার হাতে রেপিং পেপারে মোড়ানো একটি বিস্কুটের কার্টন ছিল। শিক্ষা কর্মকর্তার সন্দেহ হলে তিনি প্যাকেটটি খুলতে বলেন। প্রথমে মাইদুল নানান অজুহাত দেখালেও একপর্যায়ে প্যাকেট খুলতে বাধ্য হন। প্যাকেটের ভেতর নগদ ৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে আরও ১ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
আটক শিক্ষক মাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে ঘুষ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কচাইকাটা স্কুলের সাবেক শিক্ষক। ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক ও তিন কর্মচারীর কাজ করে দিতে আগে এসেছিলাম। তখন ম্যাডাম কাজটি করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। পরে একজন বলেছিল যে, টাকা-পয়সা দিলে কাজ হতে পারে। তাই আজ ৮ লাখ টাকা নিয়ে এসেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম না যে ম্যাডাম ঘুষ নেন না। তাকে টাকা দিতে চাওয়াটা আমার অন্যায় হয়েছে। এর জন্য আমার জেল হলে হোক।’
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, ‘ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অনলাইনে জরিপে থাকতে হতো। এটি না থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী তাদের এমপিওভুক্তির সুপারিশ করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তাকে আগেই জানানো হয়েছিল। এরপরও তিনি আজ টাকা নিয়ে এসে অনৈতিক সুবিধা দাবি করেন।’
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজাহান আলী বলেন, ‘ঘুষের টাকাসহ আটক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
এদিকে দুদক কর্মকর্তা শাওন মিয়া জানান, আটক মাইদুলকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক হেফাজতে নেয়া হবে। এ ঘটনায় তদন্ত করে মামলা দায়ের করা হবে।
ঘুষ লেনদেনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রংপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক এখানে আসি। এসে ঘটনার সত্যতা পাই। একজন শিক্ষক হয়ে ঘুষ প্রদানের মতো এমন ঘৃণ্য কাজের জন্য আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫২:২২ ২ বার পঠিত