![]()
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসন ৮৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি মঙ্গলবার সকালে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশটির অন্যতম শক্তিশালী কৃষ্ণাঙ্গ কণ্ঠ হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
১৯৬০-এর দশক থেকেই ব্যাপ্টিস্ট ধর্মযাজক জ্যাকসন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সামনের সারিতে অবস্থান করেন।
তিনি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সঙ্গে পদযাত্রায় অংশ নেন এবং আন্দোলনের পক্ষে তহবিল সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
পরিবারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তিনি শুধু আমাদের বাবা ছিলেন না; বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত, নীরব ও উপেক্ষিত মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক সেবক নেতা ছিলেন।’
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘ন্যায়বিচার, সমতা ও ভালোবাসার প্রতি তার অবিচল বিশ্বাস অগণিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি যে আদর্শের জন্য জীবন কাটিয়েছেন, তা ধারণের মধ্য দিয়েই তার স্মৃতিকে সম্মান জানানো সম্ভব।
তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে ২০১৭ সালে তিনি প্রকাশ্যে জানান যে, তিনি অবক্ষয়জনিত স্নায়ুরোগ পারকিনসনে আক্রান্ত। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আরেকটি স্নায়ুজনিত জটিলতার কারণে গত নভেম্বরে তাকে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে জ্যাকসন জাতীয় পরিসরে আফ্রিকান-আমেরিকানদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র প্রসারে কাজ করেছেন।
তিনি ছিলেন প্রভাবশালী বক্তা এবং আন্তর্জাতিক সংকটে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও পরিচিত।
১৯৮০-এর দশকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়েন তিনি। যদিও মনোনয়ন পাননি, তবু ২০০৯ সালে বারাক ওবামা দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সবচেয়ে আলোচিত কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি বিবেচিত হন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্যাকসনকে প্রাণচঞ্চল, মিশুক ও বাস্তববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের ক্ষমতায়নের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ও পরে জ্যাকসনের সঙ্গে তার সহযোগিতা ছিল।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ‘জেসি ছিলেন প্রকৃতির এক দুর্দান্ত শক্তি—তার মতো মানুষ খুব কমই দেখা যায়।’
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫১:৫৭ ৯ বার পঠিত