![]()
ঈদকে সামনে রেখে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাঁত পল্লিগুলো। প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার তাঁতিরা। তাঁত শ্রমিকদের তৈরি প্রতিটি শাড়িতে আধুনিক ও শৈল্পিক কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা বাহারি নকশা। দীর্ঘদিন পর কাজের চাপ বাড়ায় বাড়তি আয়ে খুশি শ্রমিকরা।
ঈদের মৌসুম এলেই সিরাজগঞ্জের তাঁত পল্লিগুলোতে কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দিন-রাত যেন দম ফেলার সময় থাকে না শ্রমিকদের। সরজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তাঁত বুননের খটখট শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও এনায়েতপুরের তাঁত পল্লিগুলো।
বাজার ধরতে রাতদিন এক করে শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত তাঁতিরা। এখানকার তৈরি শাড়ি পাইকারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর তাঁত পল্লিগুলো আবার কর্মমুখর হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা।
বেলকুচি তাঁত পল্লীর শ্রমিক সাইদুল ইসলাম জানান, এবার ঈদ উপলক্ষে কারখানায় বাহারি নাম ও নতুন ডিজাইনের উন্নতমানের জামদানি, সুতি জামদানি, কাতান, বেনারসিসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ি তৈরি হচ্ছে।
তাঁত মালিক বৈদ্দনাথ রায় বলেন, বর্তমানে তাঁতশিল্পে মন্দাভাব চলছে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে সেই মন্দা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন তাঁতিরা। শাড়ি তৈরির প্রধান কাঁচামাল রং ও সুতার বাজার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে জেলার ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। সরকারের সুনজর পেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।
সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত। জেলায় পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৫ লাখ তাঁত।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৫৫:৫৯ ৭ বার পঠিত