![]()
জামালপুর প্রতিনিধি : সরিষাবাড়ী পেশায় কেউ কাঠমিস্ত্রি, কেউ ডিশ লাইনের মিস্ত্রি, আবার কেউ বা দিনমজুর। নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা সাংবাদিকতার ন্যূনতম অভিজ্ঞতা। অথচ একটি সাইনবোর্ড আর ফেসবুক পোস্টের বদৌলতে রাতারাতি তারা বনে যাচ্ছেন ‘সাংবাদিক’!
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ইদানীং এমনই এক অদ্ভুত ‘সাংবাদিক তৈরির কারখানা’র দেখা মিলছে, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র হাসাহাসি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরিষাবাড়ীর বিভিন্ন অখ্যাত ও ভূঁইফোঁড় সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত ইফতার মাহফিল বা ছোটখাটো গেট-টুগেদার এখন সাংবাদিক হওয়ার সহজ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসাথে বসে ইফতার করা, কয়েকটা গ্রুপ ছবি তোলা আর সেই ছবি ফেসবুকে দিয়ে ‘অমুক পত্রিকার প্রতিনিধি’ বা ‘অমুক প্রেসক্লাবের নেতা’ হিসেবে প্রচার করা, এটাই যেন এখন নতুন ট্রেন্ড। সাংবাদিকতার মতো একটি মহান পেশা এখন স্রেফ কয়েকটা ছবি আর একটি ভিজিটিং কার্ডের ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সরিষাবাড়ীর সাধারণ মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বেশ সরব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্রূপ করে বলেন, “আগে জানতাম সাংবাদিক হতে পড়াশোনা আর অভিজ্ঞতা লাগে, এখন দেখি হাতুড়ি ফেলে কলম ধরলেই সাংবাদিক হওয়া যায়। তবে কে আসল আর কে নকল, সেটা বুঝতে আমাদের সময় লাগে না।”
সচেতন মহলের মতে, এই ‘সাইনবোর্ডধারী’ সাংবাদিকদের মূল লক্ষ্য জনসেবা নয়, বরং সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, প্রভাব বিস্তার করা এবং বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হওয়া।
সাংবাদিকতা কোনো নাটকের মঞ্চ নয়; এটি একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল জায়গা যা মানুষের বিশ্বাস ও ভরসার ওপর টিকে থাকে। কিন্তু সরিষাবাড়ীতে যেভাবে অপ-সাংবাদিকতার চর্চা বাড়ছে, তাতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পেশাদার সাংবাদিকদের সম্মান আজ হুমকির মুখে পড়েছে। মাঠপর্যায়ে কাজ করা প্রকৃত সংবাদকর্মীরা বলছেন, এসব নামধারী সাংবাদিকদের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে পুরো সাংবাদিক সমাজ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সাইনবোর্ড লাগিয়ে বা গলায় কার্ড ঝুলিয়ে প্রকৃত সাংবাদিক হওয়া যায় না। সাংবাদিকতার মূল পরিচয় হওয়া উচিত বস্তুনিষ্ঠ লেখনী এবং সাহসিকতায়।
সরিষাবাড়ীর সচেতন মহল অবিলম্বে এসব তথাকথিত ‘কার্ডধারী’ সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই জনপদে সুস্থ ধারার সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৩:৩০ ২২১ বার পঠিত