![]()
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাটোরে ব্যস্ত সময় পার করছেন মোটর গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপগুলোর শ্রমিকরা। লক্কড়-ঝক্কড় আর ফিটনেসবিহীন পুরাতন বাসগুলোকে ঘষামাজা ও রং করে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই- ঈদের আগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের ঘরমুখো অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন। তবে সাধারণ যাত্রীদের শঙ্কা, যান্ত্রিক ত্রুটি গোপন করে রং-চং মাখানো এসব বাস মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যানজট আরও বাড়িয়ে দেবে।
নাটোর শহরতলীর হরিশপুর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ঘুরে দেখা গেছে কর্মযজ্ঞের ধুম। অন্তত ১০০টি যাত্রীবাহী বাস এখন মেরামতের অপেক্ষায় বা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২৫ রোজার মধ্যেই এসব বাস মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশনা রয়েছে।
ওয়ার্কশপ শ্রমিক রফিক জানান, হাতে সময় খুব কম। দিন-রাত কাজ চলছে যাতে ২৫ রোজার মধ্যে বাসগুলো রাস্তায় নামতে পারে।” ওয়ার্কশপ মালিক শামীমের মতে, নতুন বডি তৈরির চেয়ে এখন পুরাতন বাস মেরামতের কাজই বেশি আসছে।
বাস মালিক রাশেদ জানান, রোজার শুরুতে যাত্রী চাপ কম থাকায় এই সময়টাকে তারা মেরামতের জন্য বেছে নিয়েছেন। তার দাবি, দুর্ঘটনা রোধ করতেই গাড়িগুলো মেরামত করা হচ্ছে।
তবে ভিন্ন সুর শোনা গেল চালক ও যাত্রীদের কণ্ঠে। বাসচালক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘ঈদের আগে ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহন রাস্তায় নামার কারণেই মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ায়।’
যাত্রী সোহেল সরাসরি দাবি জানান, ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে হলে মহাসড়কে এসব লক্কড়-ঝক্কড় যানের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
নাটোর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি প্রশান্ত কুমার পোদ্দার লক্ষণ বলেন, ‘নাটোর সমিতি থেকে কোনো ফিটনেসবিহীন বাস চালানো হবে না। তবে অন্য জেলা থেকে যদি এ ধরনের বাস প্রবেশ করে, তবে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ বিষয়ে ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। যানজট নিরসনে ও দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশ সজাগ রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২:২২:১৯ ৮ বার পঠিত