সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬



সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ ব্যবসা প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সেবা ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই লাইসেন্স ও নিবন্ধন পেতে পারেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা : বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনীতিতে টেকসই স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের বিকল্প নেই। অতীতে জবাবদিহির ঘাটতি ও অযৌক্তিক প্রকল্প গ্রহণের কারণে যে অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে রয়ে গেছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের বাইরে কোনো আলাদা সত্তা নয়। জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের মাধ্যমেই একটি সুস্থ অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
এই সংযোগ দুর্বল হলে অর্থনীতিতে অস্থিরতা ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। এলএনজি, ক্রুড অয়েল ও সার আমদানির খরচ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, যা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত করহার বাড়ানোর বদলে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
আসন্ন বাজেটে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বেসরকারি খাতকে সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করা সম্ভব।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। কিন্তু অতীতে কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেগুলোর যথাযথ যৌক্তিকতা ছিল না এবং কাঙ্ক্ষিত ফলও পাওয়া যায়নি। পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এসব প্রকল্পে অনিয়ম ও অকার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জ্বালানি সরবরাহ উন্নয়ন, স্থানীয় গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনায় ড. মঞ্জুর হোসেন এবং মাহবুবুর রহমানসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:১০:০৫   ১৬ বার পঠিত