![]()
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের গুণগত মান বজায় রাখা হবে। পরীক্ষকরা যেন পর্যাপ্ত সময় নিয়ে খাতা দেখতে পারেন, সেজন্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী জানান, অতীতে শিক্ষকদের ওপর অনেক বেশি খাতা দেখার চাপ থাকত, কিন্তু সময় দেওয়া হতো খুবই কম।
তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষকের পক্ষে কতটি খাতা দেখা সম্ভব, তার একটি আনুপাতিক হার আমরা নির্ধারণ করেছি। শিক্ষকদের এখন আর তাড়াহুড়ো করে খাতা দেখতে হবে না। তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয়।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ধরনের ত্রুটি বা বৈষম্য হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে এবার ‘রেন্ডম স্যাম্পলিং’ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি বোর্ডের কিছু খাতা দৈবচয়ন বা রেন্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ দ্বারা পুনরায় যাচাই করা হবে। কোনো পরীক্ষক অতি কঠোরতা দেখাচ্ছেন কিনা বা অবহেলা করছেন কিনা, তা এই প্রক্রিয়ায় ধরা পড়বে। উত্তরপত্রে সঠিক তথ্য থাকলে কোনো পরীক্ষার্থী যেন প্রাপ্য নম্বর থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
এবার খাতা দেখার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে উল্লেখ করে ড. মিলন জানান, পরীক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘খাতা দেখার পদ্ধতি আগে কখনো এভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। এবার আমরা এক্সামিনারদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি খাতা দেখার মান যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’
পরীক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন কোনো নির্দেশনা দেইনি যে ঢালাওভাবে নম্বর বাড়িয়ে দিতে হবে। তবে খাতা দেখার সময় ‘লিবারেল’ বা সহনশীল হতে হবে। একটি উত্তরের ১০টি লাইনের মধ্যে ৯টি সঠিক থাকলে তাকে যথাযথ নম্বর দিতে হবে। অহেতুক কঠোরতা করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা যাবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা সংক্রান্ত আইন ও আধুনিক তদারকি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রোধে ‘পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০’ সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন আইনে ডিজিটাল ক্রাইম এবং কেন্দ্র সচিবদের অবহেলার বিষয়টি শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৮:০৯ ১২ বার পঠিত