মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

আমাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে চাইলে পণ্য কিনতেও হবে : বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » আমাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে চাইলে পণ্য কিনতেও হবে : বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬



আমাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে চাইলে পণ্য কিনতেও হবে : বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, ‘কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে আর আমদানির ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোর ওপর নির্ভর করে, তাহলে ওই দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য–ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না। তাই আপনি যদি আমাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে চান, তাহলে আমাদের কাছ থেকেও পণ্য কেনার চেষ্টা করতে হবে।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।
এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন হলে শুধু দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থানের কারণে ২১ শতকে একটি প্রধান উৎপাদনকেন্দ্রে (ম্যানুফ্যাকচারিং সেন্টার) পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বাণিজ্যচুক্তি একটি চমৎকার চুক্তি।
এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধি পাবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যে ভারসাম্য আসবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর করতে উদ্যোগ নিচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধি পাবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যে ভারসাম্য আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের হওয়া বাণিজ্যচুক্তিতে কোনো ধরনের গোপনীয়তা নেই।

ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আরো বলেন, ‘কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে আর আমদানির ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোর ওপর নির্ভর করে, তাহলে ওই দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য–ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না। তাই আপনি যদি আমাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে চান, তাহলে আমাদের কাছ থেকেও পণ্য কেনার চেষ্টা করতে হবে।’

রাষ্ট্রদূতের মতে, এই চুক্তি কোনো সহায়তা নয়, বরং বাণিজ্যিক চুক্তি, যা দুই দেশেই কর্মসংস্থান বাড়াবে ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এ ছাড়া চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার অঙ্গীকার করেছে, যাকে দেশের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও ভোক্তাদের স্বাগত জানানো উচিত।

বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষে‌ত্রে বি‌ভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তু‌লে ধ‌রেন মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূত। তি‌নি বলেন, এখানকার জটিল লাইসেন্সিং পদ্ধতি, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি বড় বিনিয়োগের পথে প্রধান বাধা। ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা চালু, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া নিশ্চিত এবং শ্রম ও পরিবেশগত মানদণ্ড জোরদার করার মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশ সংস্কার করা জরু‌রি।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৮:৩৭   ৯ বার পঠিত