শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

বদলে যাওয়া জামায়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করে : গোলাম পরওয়ার

প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » বদলে যাওয়া জামায়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করে : গোলাম পরওয়ার
শুক্রবার, ১ মে ২০২৬



বদলে যাওয়া জামায়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করে : গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ ও সম্মান করেন। স্বাধীনতার পর সংগঠনে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সেই সময়ের জামায়াত আর এখনকার জামায়াত এক না।

পাকিস্তান আমলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতকে নিয়ে অনেক আলোচনা-বিতর্ক হতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তার অর্থ এই না স্বাধীনতার পর কিছু পরিবর্তন হয়নি।
বহুবার জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র নীতি পদ্ধতি বদল হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগর শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, আমাদের গঠনতন্ত্র পড়ে দেখবেন ভূমিকাতেই রুকন হওয়ার শর্তের মধ্যেই আমরা বলেছি, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই লড়াই সংগ্রামকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ ও সম্মান করেছি। জামায়াতের সদস্য পদ লাভ করতে গেলে এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মত্যাগের স্বীকৃতি না দিলে তিনি এর সদস্য হতে পারবেন না।

তিনি আরো বলেন, সংসদের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে একই সুর আমাদের আশান্বিত করেছে। আমরা এখন সামনে যেতে চাই। তাহলেই আমরা নতুন প্রজন্মকে একটা নতুন ইতিহাস দিয়ে যেতে পারব।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল-২০২৬ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম।
এই বিলের মধ্যে ব্যাড ইনটেনশন আছে। এটা সংশোধন করা উচিত। এটা দেশের মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে যে অপশক্তি তৎপর আছে তাদেরই অপতৎপরতার ফল হিসেবে রাখা হয়েছে।

‘এত সাংবিধানিক পরিবর্তনের পরও একটা মহল যখন এ বিতর্ক জিইয়ে রাখতে চান। এটা দেশপ্রেম স্বাধীনতার প্রেম না।
এটা হচ্ছে জাতিকে বিভক্ত করার একটি বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ। এই দূরভিসন্ধি থেকে জাতিকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিউনিজম তত্ত্বে শ্রমিকদের কথা বলা হলেও বাস্তবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। একইভাবে, একটি রাষ্ট্রে যদি পশ্চিমা গণতন্ত্র, সমাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা প্রাধান্য পায়, তবে সেখানে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী শাসন ব্যবস্থার প্রয়োজন।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন— কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা এটিএম মাসুম, মহানগরীর প্রধান উপদেষ্টা কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মু. মজিবুর রহমান ভুঁইয়া।

মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি মু. মাইন উদ্দিন সরকার সমাবেশ পরিচালনা করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৯:০২   ১৪ বার পঠিত