মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

জনগণের শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশে সুশাসন, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা : প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » জনগণের শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশে সুশাসন, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা : প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬



জনগণের শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশে সুশাসন, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা : প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

সুশাসন, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম (অব.)।

তিনি ‘সরকারের সব অংশের সমন্বিত উদ্যোগ’ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সিভিল প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত প্রয়াসই জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনে এই কৌশলের বাস্তবায়ন অপরিহার্য।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্যের শুরুতে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকেও স্মরণ করেন, যাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সম্মেলনের দিকনির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে জনগণের সেবা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে। দেশের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসকদের নিরলস পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয়।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, একটি আধুনিক, আত্মমর্যাদাশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় নিরাপত্তা, সুশাসন এবং কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সংশ্লিষ্ট আলোচনায় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বাহিনী প্রধানগণও তাদের বক্তব্যে নিজ নিজ বাহিনীর অবস্থান এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে প্রত্যাশা তুলে ধরেন।

সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সুদৃঢ় সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই সম্পর্কের গভীর শিকড় নিহিত রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, তার ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জনগণের বাহিনী হিসাবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আজও প্রকৃত অর্থেই জনমানুষের বাহিনী হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত রেখেছে, যা দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তারা বারবার প্রমাণ করেছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে দ্রুত সহায়তা প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনী জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যে ঐতিহাসিক বন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও অটুট রয়েছে এবং জাতীয় অগ্রযাত্রায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে, যখন সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন সশস্ত্র বাহিনী মাসের পর মাস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, ব্যাংক, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি বজায় রেখে তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জননিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি আস্থা রেখে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তবে কিছু অসাধু ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে সামরিক বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে এবং সকল ব্যর্থতার দায় সামরিক বাহিনীর ওপর চাপিয়ে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চেয়েছে। কিন্তু জনগণের আস্থা, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং বেসামরিক প্রশাসনের একত্রিত সমন্বয়ের কারণে সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি।

উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বলেন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ই রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করে তুলবে। অতীতের কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি সামরিক বাহিনীর বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধে জড়ালে তার দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর নয়। ব্যক্তি বিশেষের অপরাধের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি সর্বদা অনুগত ছিল, আছে এবং থাকবে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। আজ জাতীয় নিরাপত্তা কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা বা প্রচলিত সামরিক সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাইবার হামলা, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের মতো বহুমাত্রিক হুমকি এর অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা এখন একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক ধারণা, যেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাইবার সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ বাস্তবতায় কোনো একক বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতার সমন্বয়ই একটি কার্যকর ও টেকসই নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা’ নিশ্চিত করবে; অর্থাৎ সক্ষমতার মাধ্যমে সম্ভাব্য শত্রুকে আগ্রাসনের চিন্তা থেকে বিরত রাখবে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে কর্মক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি ও দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য তিনি জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ‘ইউনিফর্ম পরিহিত নাগরিক’ হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা সমাজের সর্বস্তর থেকে এসে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে কঠোর প্রশিক্ষণ, ত্যাগ ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সৈনিকের জীবন বেছে নেয়। সশস্ত্র বাহিনী কেবল চাকরির জায়গা নয়, এটি একটি জীবনধারা। একজন সৈনিক প্রতিদিন কঠোর প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং দেশরক্ষার অঙ্গীকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বেসামরিক পরিমণ্ডলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান না করলে ভবিষ্যতে দেশপ্রেমিক ও যোগ্য তরুণ-তরুণীদের সামরিক পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে জনবিচ্ছিন্ন ও অকার্যকর সশস্ত্র বাহিনী তৈরির ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অশনি সংকেত।

উপদেষ্টা ‘সর্বজনীন জনযুদ্ধ’ ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব নয়; বরং এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রকৃতপক্ষে, সামরিক ও বেসামরিক শক্তির এই সমন্বিত প্রয়াসই আমাদের প্রতিরক্ষা নীতিতে ‘সর্বজনীন জনযুদ্ধ’ ধারণার ভিত্তি, যা প্রবর্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন- জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব নয়; বরং এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। তাঁর প্রবর্তিত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিও আজকের বিশ্বে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যেখানে কূটনীতি ও সমরনীতি পরস্পরের পরিপূরক। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী না হলে কূটনীতিও কার্যকর থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘একটি জনকল্যাণমূলক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে বেসামরিক প্রশাসনের ভূমিকা অপরিসীম- জনগণকে সংগঠিত করা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীকে কার্যকর সহায়তা প্রদান করা অন্যতম দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকল বিভাজন অতিক্রম করে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য। জনগণকে সংগঠিত করা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীকে কার্যকর সহায়তা প্রদান, এসব ক্ষেত্রে বেসামরিক প্রশাসনের ভূমিকা অপরিসীম।’

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশ নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্রকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব এবং সরকার, প্রশাসন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাব আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি পেশাদার, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সশস্ত্র বাহিনীকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাতমূলক, অনিয়ন্ত্রিত বা ব্যক্তিস্বার্থ নির্ভর সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেবে না। জাতীয় স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে যোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমানের নির্দেশিত পথ অনুসরণে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান ।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকদের প্রতি পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের কল্যাণে নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকগণ গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন।

তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুদৃঢ়, আধুনিক ও সমন্বিত জাতীয় কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর দর্শন - ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ মনে-প্রাণে ধারণ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান সফল ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের যেকোনো সংকটে সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

নৌবাহিনী প্রধান উপকূলীয় ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় নৌবাহিনীর কার্যক্রম তুলে ধরেন। বিমানবাহিনী প্রধান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসাবে নতুন বিমান সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার তাঁর বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর নেতৃত্বের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে কাজ করছে।

প্রতিরক্ষা সচিব জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সশস্ত্র বাহিনীর সকল কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে তাদের অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে সামরিক নেতৃত্ব ও সিভিল প্রশাসনের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং পারস্পরিক সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও কার্যকর সহযোগিতা জোরদার করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে এ সমন্বিত প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গত ৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০২:০১   ১১ বার পঠিত